দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে কঠোর নীতিমালা জারি
- আপডেট সময় : ০৯:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
ঢাকাসহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলের জন্য সরকার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে এই নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন এই নিয়মের আওতায় এখন থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো ই-রিকশা রাস্তায় চলতে পারবে না। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের করিডোর বা প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত রাস্তায় অটোরিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফুটপাতে কোনোভাবেই এসব যান চালানো যাবে না এবং চালকদের সবসময় সড়কের বাম লেন মেনে চলতে হবে।
নীতিমালায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে জনবহুল এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এই গতিসীমা ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে অবশ্যই স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার থাকতে হবে। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে।
নিবন্ধনের বিষয়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
আবেদনের সাথে এনআইডি, ছবি, ফিটনেস সনদ ও ফি জমার রসিদ জমা দিতে হবে। সব শর্ত পূরণ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ই-রিকশা কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট পাবে এবং এটি গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশা নিবন্ধন করা যাবে, তবে এক সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত গাড়ি অন্য এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
নিবন্ধন ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার জন্য এককালীন আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার অটোরিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি জমা দিতে হবে। প্রতিটি গাড়ির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর।
ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েটের মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করবে। এছাড়া প্রতিটি ই-রিকশায় চালক বাদে দুই থেকে চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে এবং বাণিজ্যিক মালামাল বহন বা ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্র হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
গাড়ি পার্কিং ও ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট ছাড়া ব্যাটারি চার্জ করা যাবে না এবং এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অকার্যকর ব্যাটারি জলাশয় বা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা নিষেধ করা হয়েছে; পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি গলানো বা ভাঙার কাজ করা যাবে না।
নতুন বিধিমালায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে সাথে সাথে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিকে সহায়তা দিতে হবে এবং পুলিশকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, বিপজ্জনকভাবে চালানো বা অনুমোদিত এলাকার বাইরে চলাচল করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথ বা পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন। নিবন্ধিত ই-রিকশাগুলোর ব্লু-বুক সরবরাহ করবে সিটি কর্পোরেশন এবং নিবন্ধন থেকে পাওয়া আয় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব হিসেবে গণ্য হবে। পর্যায়ক্রমে এসব যান বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।























