শাহজালালে ১২ কেজি স্বর্ণসহ আটক দুই বিদেশী যাত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ দুবাইফেরত দুই বিদেশী যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। গত বুধবার বিকেলে এমিরেটসের ইকে-৫৮৬ ফ্লাইটে আসা চেন লিউইয়ুন ও মো জিয়াওইয়ু নামের ওই দুই যাত্রীর কাছে থাকা প্রায় ১২ দশমিক ৬০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে-৫৮৬-এ স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিপুল পরিমাণ এই স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমসের নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রমের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করেছিলেন। ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ বেল্ট-২ এলাকায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার সময় তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের পরনের জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে সেলাই করে রাখা নরম হলুদ রঙের পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ২৪ ক্যারেট মানের এবং ওজনে ১২ দশমিক ৬০ কেজি। কাপড়ের মধ্যে সেলাই করে এসব পদার্থ বহন করা হচ্ছিল, যাতে সহজে তা শনাক্ত করা না যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বর্ণ পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আটক দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর দিয়ে মূল্যবান ধাতু চোরাচালানের এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, জব্দকৃত স্বর্ণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষ হলে এ সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।























