ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলা থেকে নিজেদের রক্ষায় ইউক্রেনকে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২১০ কোটি ডলারের এই চুক্তির আওতায় উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছেন, এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হাতে পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কিয়েভ বর্তমানে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট সিস্টেমকে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিক্রি করতে ২১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে।
এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে না। এর পরিবর্তে কানাডা, জার্মানি এবং নরওয়ের অনুদানের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণের আওতায় জাতীয় তহবিল থেকে অর্থের সংস্থান করা হবে। এই অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। অস্ত্র সরবরাহের মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
চলতি মাসের শুরুতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সংগ্রহের বিষয়ে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ওয়াশিংটনের সমালোচনা করেছিলেন জেলেনস্কি। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া দেশটিতে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। তারও আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া এবং দনবাসের কিছু অংশ মস্কোর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। তবে গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনার পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কিছু এলাকা দখল করে নেয় মস্কো।
জেলেনস্কি শুক্রবার রাতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়া প্রতিনিয়ত তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়াচ্ছে, আর সেই হুমকি মোকাবিলাই এখন ইউক্রেনের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কয়েক বছর দীর্ঘমেয়াদী এই প্রক্রিয়াটির সফল বাস্তবায়ন ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















