জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 4
সোমবার (২ নভেম্বর) বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদীয়মান সব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সকল সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। এই নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, দেশের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
একান্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি মানসম্মত নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস ও ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অসামান্য অবদান এবং স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। এছাড়া ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিস্তারে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত ১৭ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি দেশের জনগণের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ডাক দেন।
রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, বৈশ্বিক মহামারি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তন যুদ্ধের ধরণ বদলে দিচ্ছে। এছাড়া অপতথ্য ও সাইবার ঝুঁকি জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি সতর্কতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ ধরণের বাস্তবতা মোকাবেলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, বিচার-বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতার অধিকারী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, সিভিল সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কর্মজীবনে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। পেশাদারিত্ব, সততা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই হবে তাদের লক্ষ্য।
বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে তাদের এই প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নিজ নিজ দেশের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সংঘাত ও সংঘর্ষের বদলে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া এনডিসি কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিষ্ঠার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। এ সময় ফ্যাকাল্টির সদস্য, কোর্স সম্পন্নকারী সেনাসদস্য, বিদেশি প্রশিক্ষণার্থী, জেসিও এবং বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৫৪ জন, সিভিল সার্ভিস থেকে ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশ থেকে ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন।





















