পুলিশি বাধায় আমার দেশ সম্পাদকের সেমিনার পণ্ড

আহমেদ তেপান্তর, ঢাকা: পিপলস মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগে সীমান্ত হত্যা: রাষ্ট্রের দায় শীর্ষক সেমিনার পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আজ শনিবার সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে সভাপতিত্ব করছিলেন বিশিষ্ট সমাজচিন্তক কবি ফরহাদ মজহার। বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ পড়ার কথা আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

সেমিনার চলাকালে পুলিশি বাধা। ছবি: কাদের গনি চৌধুরী।

জানা গেছে, অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য অতিথি ও শ্রোতারা সেমিনার হলে বসার পরপরই গুলশান থানা পুলিশ বলেন, ‘এটা কূটনৈতিক এলাকা। থানার অনুমতি ছাড়া এ অনুষ্ঠান হবে না। অনুষ্ঠান বন্ধ করুন। ‘

এ অবস্থায় অনুষ্ঠানের সভাপতি ফরহাদ মজহার বলেন, ‘রাষ্ট্রের কি অবস্থা আজকের এই পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। আমরা ঘরোয়া পরিবেশে রাষ্ট্রের স্বার্থ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানও করতে পারলাম না। এজন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আমরা আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই আমরা আবারও অনুষ্ঠানটি অন্যত্র করার চেষ্টা করব।’

পুলিশি বাধায় ফিরে যাচ্ছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।

এ সময় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আজকের ঘটনা প্রমাণ করে বাংলাদেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কারণ কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় তা আগে কখনো শুনিনি। আমাদের সীমান্তে দেশের নাগরিকদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। রাষ্ট্র ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় সেই বিষয়টি এ সেমিনারে দেশের বিশিষ্টজনেরা আলোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগটি পাওয়া গেল না।’

অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অবঃ) ফজলে এলাহী আকবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভিসি ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা জেডএন তাহমিদা বেগম, বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, অধ্যাপক মামুন, অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আল ফেসানী, কবি আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, প্রবীন সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, শাকিল ওয়াহেদ, শামীমুর রহমান শামীম, সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খান, আমার দেশ পত্রিকার নিউজ এডিটর জাহেদ চৌধুরী, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল মাহমুদুর রহমানকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে আটক করেছিলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন পত্রিকায় ফাঁস করার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দু’টি মামলা ছিল বলে পুলিশ আটকের পর জানিয়েছিলো । এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসেও আটক হয়েছিলেন মাহমুদুর রহমানকে।