পাপোষে-স্যান্ডেলে মহাত্মা গান্ধীর ছবি, ক্ষমা চেয়েছে আমাজন

পায়ের হাওয়াই চপ্পলে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ছবি। পাপোষে জাতীয় পতাকা। এমন ঘটনা ঘটিয়েছে অনলাইন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আমাজন। এ জন্য আমাজনের বিরুদ্ধে ভারতে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ক্ষোভ এতটাই গভীরে যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে নির্দেশনা দিতে বলেছে।

আমাজন হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অনলাইন বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে আমাজন ভারতীয় পতাকাবাহী পাপোষ বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পাপোশে ভারতের জাতীয় পতাকা ব্যবহার, পায়ের নিচে স্যান্ডেলে মহাত্মা গান্ধীর ছবি ব্যবহারের জন্য আমাজনকে ক্ষমা চাইতে বলে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আমাজনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তা সত্ত্বেও রোববার সকালে মহাত্মা গান্ধীর মুখচ্ছবি সম্বলিত স্যান্ডেল বিক্রি অব্যাহত ছিল বলে খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

ওদিকে জি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পতাকাবাহী পাপোশ বিক্রি করার কারণে ভারতজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরকার শনিবার ভারতীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে অনলাইনে বিক্রয়কারী এ প্রতিষ্ঠানকে ডেকে পাঠায় শনিবার। এ ঘটনায় আমাজনকে ভারতের প্রতিবাদ জানাতে ওয়াশিংটনে নিয়োজিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নভতেজ স্বর্ণাকে নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেছেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাজনকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। একই সঙ্গে আপত্তিকর সব পণ্য প্রত্যাহার করে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একদিনের মধ্যে আমাজনের কান্ট্রি প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি লিখেছেন। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, ওই পণ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা আমাজনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করি। আশা করি ভবিষ্যতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

ওদিকে আমাজনের যে অংশে স্যান্ডেলের বিজ্ঞাপন ছিল সেখানে কাস্টমার রিভিউজ বোর্ডে বিভিন্ন মানুষ নানা রকম মন্তব্য করেছেন। রমেশ নামে একজন লিখেছেন, একবার কল্পনা করুন আপনার পায়ের নিচে (স্যান্ডেলে বা জুতায়) আপনার নিজের পিতামাতা ও পিতামহীর ছবি। এমনটা হলে আপনার অনুভূতি কেমন হবে। আরেকজন লিখেছেন, আমাজন লজ্জাহীন। প্রথমে তারা ভারতীয় পতাকা নিয়ে মস্করা করেছে। এখন মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে তা-ই করছে। আসলে জেফ বেজোস মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন।