বলিউডে ফিরছেন সা’দত হাসান মান্টো!

নওয়াজউদ্দিন হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এমন চরিত্রে এই প্রথম। ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর অপরদিকে চ্যালেঞ্জিংও। কারণ এমন চরিত্রের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নই, তবে এটা ঠিক মান্টো সাহেবের মতো বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব যিনি বলিউডের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন তার ভূমিকায় অভিনয় করে অন্তত নিজেকে ঋদ্ধ করতে পারবো। একই সঙ্গে অনেক অজানা বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে জানারও সুযোগ হবে।’

জাঈনতাহুর শামস: পাকিস্তানের পর এবার ভারতে হিন্দি ভাষায় উপমহাদেশের বিখ্যাত ছোট গল্পকার সা’দত হাসান মান্টোর উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে যাচ্ছে। আর এতে মান্টোর ভূমিকায় অভিনয় করবেন স্বনামধন্য অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী।

উপমহাদেশের বিখ্যাত ছোটগল্পকার সা’দত হাসান মানন্টো।

সোমবার ভারতের প্রভাবশালী হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর দেয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি অভিনেত্রী ও পরিচালক নন্দিতা দাশ ছবিটি পরিচালনা করবেন বলে পত্রিকাটি নিশ্চিত করেছে। ছবিতে সা’দত হাসান মান্টোর বন্ধুর ভূমিকায় শক্তিমান অভিনেতা চন্দন রায় স্যানালকে দেখা যাবে।

বামদিক থেকে বন্ধুর ভূমিকায় চন্দন রায় স্যানাল ও নাম ভূমিকায় নওয়াজউদ্দিন। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস।

এ ব্যাপারে উচ্ছসিত নওয়াজউদ্দিন হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এমন চরিত্রে এই প্রথম। ব্যাপারটা রোমাঞ্চকর অপরদিকে চ্যালেঞ্জিংও। কারণ এমন চরিত্রের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নই, তবে এটা ঠিক মান্টো সাহেবের মতো বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব যিনি বলিউডের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন তার ভূমিকায় অভিনয় করে অন্তত নিজেকে ঋদ্ধ করতে পারবো। একই সঙ্গে অনেক অজানা বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে জানারও সুযোগ হবে।’

ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র সঞ্জয় গুপ্তর চরিত্রে রূপদানকারী চন্দন বলেন, ‘এটা আমার জন্য ভালো সুযোগ। বিশেষ করে মান্টোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তার বন্ধুর চরিত্র রূপদানকারী হিসেবে নিজেকে শতভাগ ঢেলে দিতে হবে। কারণ এ চরিত্রটি বন্ধুর এবং শত্রুরও বটে। তাই খুবই চ্যালেঞ্জিং আমার জন্য।’

পরিচালক নন্দিতা দাশ বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রধান চরিত্রগুলো ঠিক করা হয়েছে। চিত্রনাট্য প্রায় রেডি। খুব শিগগিরই দিন তারিখ ঠিক করে কাজে নামতে পারবো।’

নন্দিতা দাশ পরিচালক হিশেবে ফিরাক (২০০৮) চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তার কাজের জন্যে ফরাসি সরকার কর্তৃক অদ্রে দেস আর্টস এট দেস লেটারস পুরস্কারে ভূষিত হন।

অপরদিকে গ্যাংস অব ওয়েসিপুর (২০১২), গ্যাংস অব ওয়েসিপুর – ২য় পর্ব (২০১২), মানঝি (২০১৩), তালাশ (২০১২), বদলাপুর (২০১৫) এবং বজরঙ্গি ভাইজান (২০১৫) ছবিতে অভিনয়ের ‍সুবাদে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসনীয় হন নওয়াজউদ্দিন। এছাড়া ধুমকেতু, লায়ন, ব্ল্যাক কারেন্সি, দি মিউজিক টিচার ছবিগুলোতে দেখা যাবে এই তারকাকে।

প্রসঙ্গত সা’দাত হাসান মান্টো উপমহাদেশের প্রখ্যাত ক্ষণজন্মা গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, অনুবাদক এবং একইসঙ্গে সংলাপ রচয়িতা। বিংশ শতকে এমন ক্ষণজন্মা প্রতিভাধর শক্তিশালী লেখকদের অগ্রজ প্রতিনিধি বলা হয় তাকে। মাত্র ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে একদিকে যেমন পাকিস্তান একজন মানবতাবাদী লেখককে হারায়, তেমনি আজও ভারত মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে এমন একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মান্টোকে। কারণ তার উল্লেখযোগ্য কর্মময় জীবন কেটেছে মুম্বাইয়ে। তাই তো মান্টোকে নিয়ে ভারতভিত্তিক ‘দ্য হিন্দু’তে দেখা যায় সাম্যের জয়গান। সেখানে দাবি করা হয়, ‘সবচেয়ে ভালো হতো যদি দুই দেশে মান্টোর জন্মশতবর্ষ পালিত হতো।’