প্যারিসে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সোশ্যাল মিডিয়ায় লাঞ্ছিত

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ


ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোহাম্মদ মুনির হোসেন এক চক্রান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্বক লাঞ্ছিতর স্বীকার হয়েছেন।

জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ , ফ্রান্স শাখার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান ছিল বিকেল ৪ ঘটিকায়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব এম তালহা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অনেক নেতৃবৃন্দ । ফ্রান্স দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন মেরীর প্রতিনিধি ও উপস্থিত ছিলেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোহাম্মদ জামিলুর ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে প্রোগ্রাম শুরু হয়।

উক্ত প্রোগ্রামের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাম্মদ মুনির হোসেন। উক্ত প্রোগ্রাম কে বানচাল করার জন্য ও মোহাম্মদ মুনির হোসেন কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফ্রান্স আওয়ামিলীগের দপ্তর সম্পাদক জনাব আসাদুজ্জামান সুমনের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক থেকে একটি পোস্ট করা হয় যেটা আমাদের নজরে পড়ে , যেখানে জনাব সুমন সাহেব উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ মুনির হোসেন বাংলাদেশ বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীর দল জামাতের সাথে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত যেটা শতভাগ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সম্মান সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে মানহানিকর করার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাছাড়া যে ব্যক্তির সাথে একটি গ্রুপ ছবির অংশবিশেষ এডিটিং করে উনাকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে ঐ ব্যক্তির সাথে উনার কোনো ধরণের ব্যাক্তিগত পরিচয় নেই, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকান্ডের তো প্রশ্নই উঠেনা।

এখানে উল্লেখ্য যে প্রবাসীদের মাঝেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও তুলে ধরার জন্য সর্বপ্রথম মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মদের একটি প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা করেন তখনই সন্তানদের খোঁজার এক পর্যায়ে তার খুলনা বিভাগের ছোট ভাই ফ্রান্স আওয়ামীলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জনাব তারিকুল ইসলাম দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমনের সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন। তখন উনাকে সম্মান জানিয়ে সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেন এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরে সকল সন্তানদের বাবাদের সার্টিফিকেটের সত্তায়িত কপি পাঠাতে বলেন। জনাব সুমন সাহেব সার্টিফিকেট এর পরিবর্তে একটি প্রত্যায়ন পত্র জমা দেন যা কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমান করতে ব্যর্থ হন।

পরবর্তীতে সার্টিফিকেট পাঠানোর কথা বলে আরো কিছু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়ে “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” সংগঠনের উদ্দেশে কেন্দ্রে যোগাযোগ করেন এবং শর্ত সাপেক্ষে এক বছরের জন্য সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি কমিটি অনুমোদন করে পাঠান ।পরবর্তীতে ৩ মাসের মধ্যে সকল সার্টিফিকেট কপি ও ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নিৰ্দেশনা দেন এবং একটি কপি মাননীয় রাষ্ট্রদূত বরাবর জমা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি কখনও সভাপতি হিসেবে ফ্রান্স দূতাবাসে জমা তো দেননি এবং তাকে ও জমা দিতে না করেন।এমনকি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও করতে ব্যর্থ হন। নির্দিষ্ট সময় পার হবার পর নিয়ম অনুযায়ী কমিটি বাতিল বলে গণ্য হয়। কেন্দ্রের সাথে কখনো তিনি যোগাযোগ ও করেননি।পরবর্তীতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ ফ্রান্স শাখার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জামিরুল ইসলাম কে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তিনি বলেন তোমরা যারা সন্তান আছো সংহতি পরিষদের সাথে কাজকর এবং আগামী সুবর্ণ জয়ন্তী প্রোগ্রাম আমরা একসাথে আয়োজন করবো। সুমন ছাড়া সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আনন্দে চিত্তে উনার প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। তখন জনাব সুমন সাহেব ঈর্ষান্নিত হয়ে মোহাম্মদ মুনির হোসেনের ভাব মূৰ্তি ক্ষুন্ন করে সেই মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি জনাব সুমন প্রায় ৩ বছর পর গত ১৯ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রোগ্রাম কে বাতিল করার জন্য প্রোগ্রাম এর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ঐ বাতিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক থেকে উনাকে বহিস্কার করে সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেন ।যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক। উনি সম্ভবত জানেন না কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা প্রাপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে প্রেসিডেন্ট সংবিধান বহিঃর্ভুত কর্মকান্ডের জন্য একমাত্র কেন্দ্রীয় সভাপতি বহিস্কার করতে পারেন। সুতরাং বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণেদিত এবং প্রতিহিংসা পরায়ণ।

উনার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত স্থানীয় আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন এবং নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মোহাম্মদ মুনির হোসেন নড়াইলের বিশ্ববরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতানের সম্পর্কে নাতি। তিনি একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ও বটে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশ ও বিদেশের মাটিতে যারা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র লিপ্ত আছেন তারা কখনো প্রকৃত দেশপ্রেমিক হতে পারেনা এবং বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হতে পারেনা ? প্রবাসে থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বিরুদ্ধে এধরণের ষড়যন্ত না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্মের পক্ষ থেকে ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট বিচার চেয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

এই নিয়ে তীব্র নিন্দা ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নড়াইল জেলা ফ্রান্স প্রবাসী এসোসিয়েশন।

বিডিসংবাদ/এএইচএস