শিশু রাকিব হত্যায় শরীফ ও মিন্টুর মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০২:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০১৭
- / 198
খুলনায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশু রাকিব হাওলাদার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামি মো. শরীফ ও মিন্টুর আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার। রায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মো. চৌধুরী আলাল সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুর হক জহির।
জরিমানার এই অর্থ রাকিবের পরিবারকে দিতে হবে। অন্যথায় দুই আসামিকে আরও দুই বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত বলেছেন, আসামিদের মধ্যে রাকিবকে বাঁচানোর প্রবণতা দেখা গেছে। তারা রাকিবকে নিয়ে হাসপাতালে গেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
এসব দিক বিবেচনা ও নথি পর্যালোচনা করে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে এই রায় দেওয়া হয়।
আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর গত ২৯ মার্চ হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য ৪ এপ্রিল (আজ) তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত।
২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে এই মামলায় ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। পাশাপাশি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।
বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার ১৪ মাসের মাথায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর গত ১০ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়। আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামে এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে মলদ্বারে কম্প্রেশার মেশিনের মাধ্যমে বাতাস ঢুকিয়ে রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরের দিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে গ্যারেজ মালিক শরীফ, শরীফের সহযোগী মিন্টু ও মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার ৯৬ দিনে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় দেন খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক।
বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার নথিপত্র ওই বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্টে এসে পৌঁছে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত হয় ও হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে।




















