সাত খুনের রায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সতর্ক সংকেত

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এটি একটি কঠিন বার্তা। এসব বাহিনীর কোনো সদস্য যদি অপরাধ করতে চান, তাহলে এ রায়ের পর তিনি একটি দৃষ্টান্ত পাবেন যে অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধ যেই করুক না কেন, কেউ রক্ষা পাবে না। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায়ে তা নিশ্চিত হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই আইনের ফাঁকফোকর থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এ মামলা থেকে রেহায় পায়নি।’

মামলায় র‌্যাব সদস্যদের সাজা হওয়ায় র‌্যাবে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার মধ্য দিয়ে র‌্যাব আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা বিপদগামী হয়েছে তারা নিজের সিদ্ধান্তেই বিপদগামী হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর দায় র‌্যাবের ওপর বর্তায় না। কারণ এ মামলার তদন্তে র‌্যাব সহায়তা করেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়েছে। ফলে পুলিশ চমৎকার চার্জশিট দিতে পেরেছিল। এ কারণেই সবাইকে খুশি হওয়ার মতো রায় হয়েছে।’

মামলার রায় অন্যদিকে ঘুরাতে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টাকা লেনদেন হলেও মামলার রায়ে এর কোনো প্রভাব পরেনি। আর এ ঘটনার পর র‌্যাবের আইন পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।’

এর আগে সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে আইনমন্ত্রী এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অপরাধের ভিন্নতা ও নৃশংসতার জন্য এ সাজা তাদের প্রাপ্য ছিল।

তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের সঙ্গে আমিও খুশি। আদালত স্বাধীনভাবে এ রায় দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।

পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। অপর মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় সোমবার সকালে নূর হোসেনসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।