ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

একজন মনজুর আহমেদের সফলতার গল্প!

  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • / 440
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ নূরুজ্জামান:

নিজের ছাত্রের সফলতা কে না দেখতে চায়? বলতে পারেন এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই আমার ছাত্র মনজুর আহমেদকে নিয়ে আমার এই লেখা। হঠাৎ একদিন একটি ফোন আসলো, ফোন রিসিভ করতেই ওপার থেকে বলল আমি মনজুর আহমেদ।

*স্যার কেমন আছেন আপনি?

মনজুর তুমি? এতদিন পর! আমি ভাল আছি, তুমি কেমন আছো ?

স্যার আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি।

তা এতদিন পর কি মনে করে, কোথা থেকে?

স্যার আমি এখন বাংলাদেশের খুব কাছে থাইল্যান্ডে, মাত্র ২ ঘন্টার দুরত্বে আছি।

আমি বললাম, তাই নাকি? তা থাইল্যান্ডে কেন ?

স্যার আমি থাইল্যান্ডে এসেছি আমার একটি রিসার্চ প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্যাসিফিক রিজিয়নে বর্তমান “রিসার্চ ট্রেন্ড” এশিয়ার দেশগুলোতে শেয়ার করা। আর আপনি তো জানেন-ই যে, আমি নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে প্রভাষক ছিলাম। বর্তমানে ওয়াইকাতু ইনস্টিটিউট অব আইটিতে শিক্ষকতা করছি এবং সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়েই অতিথি লেকচারার হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রিসার্চ উপস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি সহজকরণ কর্মশালায় অংশ নিতে থাইল্যান্ডে এসেছি।

বলো কি ! এতো খুবই গর্বের কথা। আমাদের মনজুর আজ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে।

স্যার ব্যাপার গুলো না আমার নিজের কাছের স্বপ্নের মত মনে হয়। মাঝে মাঝে ভাবি আমি কি সেই গ্রামের মনজুর? না অন্য কেউ ? যখন দেশে থাকতাম তখন পাশের বাড়ি ও নিজ জেলার লোকদের বেশি আপন মনে হত আর এখন পুরো এশিয়াকে আপন মনে হয়। এ নিয়ে গত দুই- তিন বছরে আট বার এশিয়ার দেশগুলোতে রিসার্চ এক্সপার্ট হিসেবে আসার সৌভাগ্য হয়েছে।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানতে চাইলাম দেশে আসতে কি মন চায়না ?

কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো, দেশের কথা মনে হলেই অনেক কষ্ট লাগে, আজকে যদি বাবা বেঁচে থাকতেন কতই না খুশি হতেন। আমি যার অনুপ্রেরণায় আজ ড.মনজুর আহমেদ নিউজিল্যান্ডের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি তার সবই হয়েছে বাবার উত্সাহ আর অনুপ্রেরনায়। বুঝলেন স্যার, এক সময় মনে হত আমার হয়তো আর পড়াশোনাটাই হবে না, কারণ ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ৮ বছরের গ্যাপ । কোন কিছু করার মতো শক্তি, সাহস বা উদ্দীপনা কেনটাই ছিল না, বলা যায় এক রকম উদ্দেশ্যহীন ভাবেই দিনগুলি কাটছিল। তখন বাবাই প্রথম বিষয়টি উপলদ্ধি করে আমাকে অনেকটা অনুরোধের সুরে বলছিলেন, মনজুর তুই আবার পড়াশোনা শুরু কর মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব, আমি জানি তুই একটু চেষ্টা করলেই পারবি।

বাবার কথা শুনে আশান্বিত হয়ে আনেক খোঁজ খবর নিয়ে ডিআইআইটি’তে (বর্তমান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি) ভর্তি হয়েছিলাম। স্যার একটি কথা না বলেই নয় ‘এনসিসি’ এডুকেশনের শিক্ষা পদ্ধতি যেমন ইউকে কারিকুলাম, প্রশ্নপত্র, এসাইনমেন্ট, ইউকে থেকে প্রোভাইড করা প্রজেক্ট, ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেয়া এবং ফলাফল পুনরায় ইউকে তে মুল্যায়িত হওয়া সবকিছু মিলিয়ে এই শিক্ষা পদ্ধতি আমার উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে সহযোগিতা করেছে। এরপর তো স্যার সবই আপনার জানা, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে মাস্টার্স ও নিউজিল্যান্ডে পিএইচডি। জানেন স্যার আমি নিউজিল্যান্ডে থাকলেও ডিআইআইটি’র কথা, আপনাদের কথা খুব মনে পড়ে।

আমার ছাত্র মনজুরের গল্পশুনে ভাল লাগল। একজন শিক্ষক হিসেবে আশা করি আমার ছাত্র ড. মনজুর আহমেদ সফলতার গল্প বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে উৎসাহ যোগাবে।


লেখক: মোহাম্মদ নূরুজ্জামান
নির্বাহী পরিচালক
ড্যাফোডিল ফ্যামিলি

বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

একজন মনজুর আহমেদের সফলতার গল্প!

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

মোহাম্মদ নূরুজ্জামান:

নিজের ছাত্রের সফলতা কে না দেখতে চায়? বলতে পারেন এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই আমার ছাত্র মনজুর আহমেদকে নিয়ে আমার এই লেখা। হঠাৎ একদিন একটি ফোন আসলো, ফোন রিসিভ করতেই ওপার থেকে বলল আমি মনজুর আহমেদ।

*স্যার কেমন আছেন আপনি?

মনজুর তুমি? এতদিন পর! আমি ভাল আছি, তুমি কেমন আছো ?

স্যার আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি।

তা এতদিন পর কি মনে করে, কোথা থেকে?

স্যার আমি এখন বাংলাদেশের খুব কাছে থাইল্যান্ডে, মাত্র ২ ঘন্টার দুরত্বে আছি।

আমি বললাম, তাই নাকি? তা থাইল্যান্ডে কেন ?

স্যার আমি থাইল্যান্ডে এসেছি আমার একটি রিসার্চ প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্যাসিফিক রিজিয়নে বর্তমান “রিসার্চ ট্রেন্ড” এশিয়ার দেশগুলোতে শেয়ার করা। আর আপনি তো জানেন-ই যে, আমি নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে প্রভাষক ছিলাম। বর্তমানে ওয়াইকাতু ইনস্টিটিউট অব আইটিতে শিক্ষকতা করছি এবং সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়েই অতিথি লেকচারার হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রিসার্চ উপস্থাপনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি সহজকরণ কর্মশালায় অংশ নিতে থাইল্যান্ডে এসেছি।

বলো কি ! এতো খুবই গর্বের কথা। আমাদের মনজুর আজ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে।

স্যার ব্যাপার গুলো না আমার নিজের কাছের স্বপ্নের মত মনে হয়। মাঝে মাঝে ভাবি আমি কি সেই গ্রামের মনজুর? না অন্য কেউ ? যখন দেশে থাকতাম তখন পাশের বাড়ি ও নিজ জেলার লোকদের বেশি আপন মনে হত আর এখন পুরো এশিয়াকে আপন মনে হয়। এ নিয়ে গত দুই- তিন বছরে আট বার এশিয়ার দেশগুলোতে রিসার্চ এক্সপার্ট হিসেবে আসার সৌভাগ্য হয়েছে।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানতে চাইলাম দেশে আসতে কি মন চায়না ?

কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো, দেশের কথা মনে হলেই অনেক কষ্ট লাগে, আজকে যদি বাবা বেঁচে থাকতেন কতই না খুশি হতেন। আমি যার অনুপ্রেরণায় আজ ড.মনজুর আহমেদ নিউজিল্যান্ডের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি তার সবই হয়েছে বাবার উত্সাহ আর অনুপ্রেরনায়। বুঝলেন স্যার, এক সময় মনে হত আমার হয়তো আর পড়াশোনাটাই হবে না, কারণ ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ৮ বছরের গ্যাপ । কোন কিছু করার মতো শক্তি, সাহস বা উদ্দীপনা কেনটাই ছিল না, বলা যায় এক রকম উদ্দেশ্যহীন ভাবেই দিনগুলি কাটছিল। তখন বাবাই প্রথম বিষয়টি উপলদ্ধি করে আমাকে অনেকটা অনুরোধের সুরে বলছিলেন, মনজুর তুই আবার পড়াশোনা শুরু কর মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব, আমি জানি তুই একটু চেষ্টা করলেই পারবি।

বাবার কথা শুনে আশান্বিত হয়ে আনেক খোঁজ খবর নিয়ে ডিআইআইটি’তে (বর্তমান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি) ভর্তি হয়েছিলাম। স্যার একটি কথা না বলেই নয় ‘এনসিসি’ এডুকেশনের শিক্ষা পদ্ধতি যেমন ইউকে কারিকুলাম, প্রশ্নপত্র, এসাইনমেন্ট, ইউকে থেকে প্রোভাইড করা প্রজেক্ট, ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেয়া এবং ফলাফল পুনরায় ইউকে তে মুল্যায়িত হওয়া সবকিছু মিলিয়ে এই শিক্ষা পদ্ধতি আমার উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে সহযোগিতা করেছে। এরপর তো স্যার সবই আপনার জানা, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে মাস্টার্স ও নিউজিল্যান্ডে পিএইচডি। জানেন স্যার আমি নিউজিল্যান্ডে থাকলেও ডিআইআইটি’র কথা, আপনাদের কথা খুব মনে পড়ে।

আমার ছাত্র মনজুরের গল্পশুনে ভাল লাগল। একজন শিক্ষক হিসেবে আশা করি আমার ছাত্র ড. মনজুর আহমেদ সফলতার গল্প বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে উৎসাহ যোগাবে।


লেখক: মোহাম্মদ নূরুজ্জামান
নির্বাহী পরিচালক
ড্যাফোডিল ফ্যামিলি

বিডিসংবাদ/এএইচএস