অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০১:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ দূষণ এবং সরকারি রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে এসব অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে প্রতি বছর প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ নোটিশটি উত্থাপন করেছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি তার নোটিশে উল্লেখ করেন, অটোরিকশা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এবং প্রধান সড়কে এদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
রেহানা আক্তার রানু জানান, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থাপনের পর থেকে লালবাতি অমান্য করা, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে। তিনি অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া এসব যানবাহন জব্দ বা চালকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি। তার অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিংয়ের ব্যবস্থা করা, বিআরটিএ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, গত এক দশকে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নগর ও গ্রামীণ পরিবহণ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এগুলোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ছয় হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মন্ত্রী অনিবন্ধিত যান, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ব্রেক ও আলো ব্যবস্থার ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচলকে দায়ী করেছেন। অটোরিকশার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব যানবাহনের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় পাঁচ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় ও পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় তিন হাজার ৩০০টি।

























