পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা। কিন্তু কোথায় পুলিশ??
অরক্ষিত রাতের বাংলাদেশ: শহর কিংবা মফস্বল
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
- / 354
বাংলাদেশের শহর ও মফস্বল এলাকার রাতের পরিবেশ আজকের দিনে যেমন একটি চ্যালেঞ্জিং বাস্তবতা, তেমনি জনগণের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা উদ্বেগ। সারাদেশে অপরাধ প্রবণতা, অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণে রাতের বেলা মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বিশেষ করে, অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর, যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কিংবা সিলেটের মতো মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই যাচ্ছে। রাতের বেলায় যানজট কিছুটা কমে গেলেও, অপরাধীদের তৎপরতা অনেকটা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনতাই, চুরি, মাদকাসক্তদের আক্রমণ, এবং নারী নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটছে। শহরের এই পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যারা রাতে কাজ থেকে ফেরেন। রাইড শেয়ারিং বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যারা যাতায়াত করেন, তাদের অনেকেই ছিনতাইকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। অফিস কিংবা কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে নারীরাও এক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যার দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, সম্পত্তি সুরক্ষা, এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধ করা। কিন্তু কোথায় পুলিশ?? শত মাইল পাড়ি দেওয়ার পরও একজন পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি, ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো একটি ট্রাংক রোডে। বাংলাদেশের এই নতুন বিজয়কে যেন কোনো ভাবেই পুলিশ প্রশাসন পুড়োপুড়িভাবে মেনে নিতে পারছে না।তাইতো সাধারণ মানুষের মনে তৈরী হয়েছে কাদেরকে রক্ষা করার জন্য পুলিশ আজ অরক্ষিত করেছ পুরো দেশকে।
পুলিশ নিয়ে জনগণের অভিযোগের সীমা নেই। অনেকেই বলে থাকেন, পুলিশ অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘুষ খায়, চাঁদাবাজি করে এবং অপরাধ দমনের পরিবর্তে কখনো কখনো নিজেরাই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এটি শুধু কথার কথা নয়; বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও দেখা গেছে, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, তদন্ত ঠিকমত হয় না, এবং অনেক সময় অপরাধীর চেয়ে সাধারণ মানুষকেই হয়রানির শিকার হতে হয়। সাধারণ মানুষ কেন পুলিশের প্রতি অসন্তুষ্টি তা কিছু ঘটনার মাধ্যমে জানাচ্ছিঃ
ঘটনা ১ঃ গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাত ১০ ঘটিকায়, আমি(প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন) কুমিল্লা থেকে বন্যায় পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন করে নিজস্ব গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম সঙ্গে ছিলেন আমাদের টিম মেম্বার এবং ড্রাইভার। তাদের সবার চোখে একটি বিষয় খুব মারাত্মক ভাবে ধরা পড়ল যে পুরো ১০০ কিলো.মিটার পথ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পযন্ত পাড়ি দিলাম, অবাক বিস্ময়ে (ভয় মেশানো চোখে) এদিক সেদিক দেখলাম কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার যে একজন পুলিশ কিংবা পুলিশের কোনো একটি ভ্যানের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পথিমধ্যে সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে যখন গাড়িতে বসে ছিলাম তখন অতর্কিতে একজন অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মানিব্যাগ, ওয়ানপ্লাস মোবাইল এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারী ভুলবশত তার বাটন ফোনটি ফেলে যায়। পরে তার ফোনে তার মায়ের একটি কল আসে, এবং কথা বলার সময় আমরা জানতে পারি যে সে ইবনে সিনা হসপিটাল এর পিছনে, ধোলাইপাড় এলাকায় বাস করে। ঘটনার পর ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে ডেমরা থানায় সাধারণ ডায়রি করার জন্য বলা হয়। পরে থানায় সাধারন ডায়েরি করা হয় সব তথ্য দেয়ার পর ও পুলিশ হামলাকারীকে সাথে সাথে ধরে নি। পরবর্তীতে অনেক বার যোগাযোগ করা সত্যেও কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করে নি পুলিশ।
ঘটনা ২ঃ গুলিস্তানে বাসে উঠার জন্য একজন মহিলা অপেক্ষা করছিলেন, বাস আসলো তার সাথে সাথেই উনি চিৎকার করে উঠলেন। সবাই বললো কি হলো উনি বলছেন উনার কানের দুল নেয়ার জন্য টান দিয়েছিলো একটুর জন্য নিতে পারে নি। বাস চালক ফোয়ারায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে বললো কিন্তু পুলিশের কোনো কিছু বলার তো দূরের কথা উনি দাঁড়িয়ে রইলেন এমনভাবে যেন কিছুই হয় নি।
ঘটনা ৩ঃ ধানমন্ডির একটি কোচিং থেকে ফেরার সময় একটি ছেলেকে ছুরি ধরে তার ফোন নিয়ে গেছে গত মাসে সন্ধ্যা ৭:৩০ এ ইউনিমার্ট এর সামনে থেকে। ধানমন্ডির অবস্থা দিন দিন যে ভয়াবহ হচ্ছে আর এরপরও পুলিশ এর যদি কোনো ভূমিকা থাকতো! ভুক্তভোগী জিডি করেছিলো থানায় পুলিশ কিছুই করেনি এই ব্যাপারে অথচ তারা খুব সহজে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এদেরকে বের করা সম্ভব ছিলো।
ঘটনা ৪ঃ মীর জাওয়াদ আদিব Maple Leaf International স্কুলের ক্লাস সেভেনের স্টুডেন্ট। ছেলেটিকে তার কোচিং এর সামনে সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিটে কিডন্যাপ করা হয়েছিলো। গত ৫ই অগাস্টের পর থেকে ধানমন্ডির বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কোচিং থেকে(যেখানে শুধুই ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা পড়ে) অনেক বাচ্চা কিডন্যাপ হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ঐ এরিয়া থেকে দুইটা বাচ্চাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল। আদিবের পরিবার বলেন যে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আমার ছেলে যেন বাতাসের সাথে মিলিয়ে গিয়েছিলো। প্রায় ৪০মিনিট পর তাদের ছেলেকে (সেন্স ছিলো না) আমাকে কল দিয়ে বলে বাবা আমি কোথায় আমি জানি না তুমি আমাকে নিয়ে যাও। ওর কথায় বেশ জড়তা ছিলো। ওকে ওর কোচিং-এর থেকে অনেক দূরে পাওয়া গেছে। (কোচিং ৯/এ তে এবং ওকে জাহাজ বাড়ির গলি/গহনা রেস্টুরেন্টের পাশে একটা গলি আছে যেটা রাতে বেশ অন্ধকার থাকে ওখানে পাওয়া গেছে) পরবর্তীতে আমরা যখন জিজ্ঞেস করি তখন ও বলে ওর কিছু মনে নেই। মীর কোচিং-এর গেটের কাছে এসেছিলো ফুচকা নেওয়ার জন্য (কোচিং-এর গেট ও ফুচকার দোকান এর দূরত্ব খুব বেশি হলে ৪ কদম) এরমধ্যে ওকে কেউ পিছে থেকে ডেকেছে ও পিছনে ঘুরে তাকানোর সাথে সাথে ওর মুখে স্প্রে করে, এরপর ওর আর কিছু মনে নেই। ওর কোচিংয়ের এরিয়া অনেক ব্যস্ত থাকে সবসময় সেখান থেকে এভাবে একটা বাচ্চাকে স্প্রে দিয়ে সেন্সলেস করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। আমরা যখন আমার ছেলের লোকেশন ট্র্যাক করে ওর কাছে পৌঁছাই তখন ও ভালো করে চোখ মেলে তাঁকাতে পারছিলো না। ও একধরনের নেশার ঘোরে ছিল। ওরা আমার ছেলের কাছে কিছু পায়নি আর ওর মোবাইলটা স্কুল ব্যাগের ভিতরে একটা ছোট স্পেয়ার পকেটের মধ্যে সাইলেন্ট অবস্থায় ছিল। তাই ঐটা তারা খুঁজে পায়নি। কিছু না পেয়ে সেন্সলেস অবস্থায় লেকের পাশে অন্ধকার গলিতে ফেলে রেখে গিয়েছিল। আমার ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসার সময় ওখানে থাকা কয়েকজনের মুখে শুনলাম মাত্র তিন চারদিন আগেই নাকি এই একই জায়গা থেকে মাস্টার মাইন্ড স্কুলের একটা বাচ্চাকে আমার ছেলের মতো সেইম অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। ধানমন্ডিতে এখন এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে গত ২৭ অক্টোবর,২০২৪ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে,
ঢাকা মহানগরের অপরাধ পরিস্থিতি (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, ২০২৪)

মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঢাকা শহরে খুনের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোহাম্মদপুরে অপরাধের চাপ মোকাবিলায় পুলিশ জনবল সংকটের মুখে রয়েছে, ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
পুলিশ জনগণের বন্ধু হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবতায় জনগণের মনে পুলিশকে ভয় করার ধারণাই বেশি প্রকট। প্রবাদতুল্য কথাটি, ‘বাঘে ছুলে দশ ঘা, পুলিশে ধরলে আঠারো ঘা’, অনেকটাই বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করা হয়। এমনকি শিশুদেরও শাসাতে বলা হয়, ‘পুলিশ ডাকবো কিন্তু!’ যা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। অথচ সমস্যার সমাধানে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া মানুষের অন্য কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, সেখানেও মানুষ আশাহত হয়েই ফিরে আসে।
গত ০৬ নভেম্বর ২০২৪ প্রথম আলো পত্রিকায় উম্মে ওয়ারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক; যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পিএইচডি গবেষক লিখেছেনঃ
বাংলাদেশে পুলিশের সংস্কার নিয়ে বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ এবং সরকারের উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে পুলিশ বাহিনীর জনবিরোধী আচরণ ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরপর পুলিশ বাহিনীর সংস্কার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য একটি ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, যা তিন মাসের মধ্যে সংস্কারের সুপারিশমালা প্রস্তাব করবে। পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হয় মূলত ব্রিটিশ যুগের আইনের মাধ্যমে, যেমন ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এবং ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি, যা আধুনিক যুগের চাহিদা পূরণে অক্ষম। এই পুরনো আইন আধুনিকীকরণ এবং পরিমার্জন করা প্রয়োজন, যা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও কার্যকর হয়নি।
২০১৩ সালে ‘বাংলাদেশ পুলিশ অধ্যাদেশ’ প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার মধ্যে পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর, জবাবদিহি বাড়ানোর এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল। এই প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে পুলিশ সদস্যদের আচরণবিধির মানোন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে, পুলিশের বিরুদ্ধে বিরোধী মনোভাব থাকার কারণে, অনেক থানা পুরোদমে কাজ শুরু করেনি, ফলে অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরিসংখ্যান কমে গেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো পুলিশ বাহিনীতে সরকারি দলের প্রভাব কমানো। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত পুলিশ বাহিনী গঠনের জন্য একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন প্রয়োজন, যা সরকারের মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে। পুলিশ বাহিনীর নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির বিষয়গুলোকে বিরাজনীতিকরণ করতে হবে, যাতে পুলিশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
এছাড়া, সাধারণ মানুষের প্রধান অভিযোগ হলো পুলিশ বাহিনী সরকার পক্ষের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা এবং জনবিরোধী মনোভাব পোষণ করা। জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে পুলিশকে জনবান্ধব ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণ পুলিশের সাহায্য নিতে ভয় না পায়, বিশেষ করে রাজনৈতিক বা বিত্তবানদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে।
পুলিশের এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি পরিবর্তনের জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে হবে। অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া, ঘুষ বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এ ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। এছাড়া ও পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক এবং কার্যকর করতে হলে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
শহর ও মফস্বলে রাতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাধীন চলাফেরায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক মানুষ রাতে বাইরে যাওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলছেন। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য প্রয়োজন:
১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ দেয়া খুবই জরুরি।
২. লেজুর ভিওিক রাজনীতির সাথে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং বাধ্যতামূলক অবসরের ব্যবস্থা করা।
৩. রাত্রিকালীন পুলিশ টহল – ট্রাংক রোডগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানো দরকার।
৪. সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত রাস্তায় আলো – অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. সচেতনতামূলক কর্মসূচি – জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।
৬. স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং – জনগণের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
৭. মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা ব্যবস্থা – জরুরি অবস্থায় সাহায্য পেতে সহজলভ্য করা যেতে পারে।
৮. পুলিশে ছাএদের short training এর ব্যবস্থা করে দ্রুততম সময়ে তাদের পার্টটাইম/ফুলটাইম নিয়োগ সম্পন্ন করা উচিত।
পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে ন্যায় ও সততার সঙ্গে, যাতে তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এবং জনসাধারণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শহর ও মফস্বল উভয় জায়গাতেই মানুষের নিরাপদ জীবনের অধিকার রক্ষায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
লেখকঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, প্রিন্সিপাল এবং
নুসরাত জাহান সরকার, প্রভাষক
ড্যাফোডিল ইনিস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (ডিআইআইটি)
বিডিসংবাদ/এএইচএস




















