আগামী ৫ বছরে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়বে সরকার
- আপডেট সময় : ১২:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 2
দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ভলিবল ও হ্যান্ডবল প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ৩ থেকে ৮ বিঘা খাসজমি উদ্ধার ও সংস্কার করে এসব মাঠ গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশন এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও তরুণ-তরুণীদের জন্য মাঠগুলো উন্মুক্ত থাকবে। আমিনুল হক বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তৃণমূলের মাঠ তৈরির পাশাপাশি দেশজুড়ে থাকা জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়নের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। আট বিভাগের প্রতিটি স্টেডিয়ামে ইনডোর সুবিধা ও সুইমিংপুল যুক্ত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। ক্রীড়া খাতের অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে এরই মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।
ক্রীড়া অঙ্গনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিসিবিসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রীড়া খাতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি কমিটি করেছে।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন ক্রীড়া ক্যালেন্ডার চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, আর্চারি ও শুটিংসহ ১৫টি ইভেন্টে বছরজুড়ে প্রতিযোগিতা চলবে। এছাড়া খেলাধুলার প্রসারে আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন। প্রথম আসর থেকে বাছাই করা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিকেএসপিতে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা ও খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরজুড়ে বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ের খেলোয়াড়েরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। প্রথম আসরে অংশ নেওয়া ৩০৬ জনের মধ্যে থেকে ৪০ জনকে বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) স্থায়ীভাবে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।













