ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুয়াশায় ঢাকা উত্তর জনপদে শীতের আগমন

  • আপডেট সময় : ১১:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 153
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তর জনপদের ৮ জেলায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীত আসছে। ইতোমধ্যে শীতের আমেজ আসতে শুরু করেছে এ অঞ্চলে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর ভারী শীতের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাতাসের আর্দ্রতা নিচে নেমে এসেছে।

তীব্র শীতের আগেই অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা প্রয়োজন।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল জানিয়েছেন, শীত মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। উত্তরের ৮ জেলার তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র নদীর ৭৪৫টি চরে যারা বাস করেন তাদের জন্য শীত নেমে আসার আগেই শীত বস্ত্র বিতরণ করা জরুরি। যাতে শীত নিবারণের আগুনে দগ্ধ হয়ে কোন ব্যক্তি প্রাণ না হারায়।

এ বছর নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের পরই উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় পাওয়া যাচ্ছে শীতের আভাস। কার্তিক মাসেই দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে ক্রমেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে শীতের আগমন।

গত কয়েকদিন ধরে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রংপুর সহ আশেপাশের জেলার গ্রামীণ জনপদগুলো। ভোরের হালকা শীত আর ঠান্ডা হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে—শীত আসতে দেরি নেই।

কুয়াশায় মোড়ানো পথঘাট, মাঠে সোনালি ধানের আভা, আর বিলে শাপলার হাসি—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নিল ছবি আঁকছে প্রকৃতি। উঠানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শিউলি আর বেলী ফুলের সুবাস আরও নির্মলতা, আরও পবিত্রতা ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশে।

রংপুর আবহাওয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

শীতের আগমনের কথা জানিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার অটোরিকশাচালক হরিদাস রায় বলেন, সকালে অটো নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু ঘন কুয়াশায় রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না। হেডলাইট জ্বালিয়ে খুব সাবধানে সেই সময় গাড়ি চালাতে হয়েছে।

এরই মধ্যে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে শীতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে বিছানার ওপর জায়গা পেতে শুরু করেছে পাতলা কাঁথা, চাদর ও কম্বল। দিনের বেলা রোদের ঔজ্জ্বল্য থাকলেও রাত নামলেই শীতের আমেজ বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে।

রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফারিহা বলেন, ‘ভোরে ঘুম ভাঙতেই জানালার ওপারে দেখি ধোঁয়াটে কুয়াশা। মনে হচ্ছিল যেন পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে কুয়াশার চাদরে। কেউ ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হচ্ছেন, কেউ আবার চায়ের দোকানে বসে গরম চায়ের কাপে গল্পে মেতে উঠেছেন। শীতের সময় এ এক অন্য রকম আনন্দ।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে ঠান্ডা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা আর হালকা ঠান্ডা শীত মৌসুম পরিবর্তনের সংকেত। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।’

উত্তরের প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের ছোঁয়া স্পষ্ট। ধান পাকার সুবাস, শাপলা-শিউলির সৌন্দর্য আর ভোরের কুয়াশা—সব মিলিয়ে এক অনিন্দ্য দৃশ্য আঁকছে উত্তরের এই জেলাগুলো। গ্রামীণ মানুষেরা তাই বেশ বুঝতে পারছেন— শীত আসছে। প্রকৃতি যেন ডাক দিচ্ছে শীতের হিমেল হওয়া উপভোগের জন্য।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুয়াশায় ঢাকা উত্তর জনপদে শীতের আগমন

আপডেট সময় : ১১:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তর জনপদের ৮ জেলায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীত আসছে। ইতোমধ্যে শীতের আমেজ আসতে শুরু করেছে এ অঞ্চলে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে এই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর ভারী শীতের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বাতাসের আর্দ্রতা নিচে নেমে এসেছে।

তীব্র শীতের আগেই অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা প্রয়োজন।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল জানিয়েছেন, শীত মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। উত্তরের ৮ জেলার তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র নদীর ৭৪৫টি চরে যারা বাস করেন তাদের জন্য শীত নেমে আসার আগেই শীত বস্ত্র বিতরণ করা জরুরি। যাতে শীত নিবারণের আগুনে দগ্ধ হয়ে কোন ব্যক্তি প্রাণ না হারায়।

এ বছর নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের পরই উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় পাওয়া যাচ্ছে শীতের আভাস। কার্তিক মাসেই দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে ক্রমেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে শীতের আগমন।

গত কয়েকদিন ধরে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রংপুর সহ আশেপাশের জেলার গ্রামীণ জনপদগুলো। ভোরের হালকা শীত আর ঠান্ডা হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে—শীত আসতে দেরি নেই।

কুয়াশায় মোড়ানো পথঘাট, মাঠে সোনালি ধানের আভা, আর বিলে শাপলার হাসি—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নিল ছবি আঁকছে প্রকৃতি। উঠানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শিউলি আর বেলী ফুলের সুবাস আরও নির্মলতা, আরও পবিত্রতা ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশে।

রংপুর আবহাওয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

শীতের আগমনের কথা জানিয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার অটোরিকশাচালক হরিদাস রায় বলেন, সকালে অটো নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু ঘন কুয়াশায় রাস্তা দেখা যাচ্ছিল না। হেডলাইট জ্বালিয়ে খুব সাবধানে সেই সময় গাড়ি চালাতে হয়েছে।

এরই মধ্যে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে শীতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে বিছানার ওপর জায়গা পেতে শুরু করেছে পাতলা কাঁথা, চাদর ও কম্বল। দিনের বেলা রোদের ঔজ্জ্বল্য থাকলেও রাত নামলেই শীতের আমেজ বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে।

রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফারিহা বলেন, ‘ভোরে ঘুম ভাঙতেই জানালার ওপারে দেখি ধোঁয়াটে কুয়াশা। মনে হচ্ছিল যেন পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে কুয়াশার চাদরে। কেউ ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হচ্ছেন, কেউ আবার চায়ের দোকানে বসে গরম চায়ের কাপে গল্পে মেতে উঠেছেন। শীতের সময় এ এক অন্য রকম আনন্দ।’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে ঠান্ডা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা আর হালকা ঠান্ডা শীত মৌসুম পরিবর্তনের সংকেত। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।’

উত্তরের প্রকৃতিতে এখন হেমন্তের ছোঁয়া স্পষ্ট। ধান পাকার সুবাস, শাপলা-শিউলির সৌন্দর্য আর ভোরের কুয়াশা—সব মিলিয়ে এক অনিন্দ্য দৃশ্য আঁকছে উত্তরের এই জেলাগুলো। গ্রামীণ মানুষেরা তাই বেশ বুঝতে পারছেন— শীত আসছে। প্রকৃতি যেন ডাক দিচ্ছে শীতের হিমেল হওয়া উপভোগের জন্য।
বিডিসংবাদ/এএইচএস