চাকরি হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নতুন প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
- আপডেট সময় : ১০:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অস্থায়ী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার অধীনে থাকা ব্যক্তিরা যদি কোনো কারণে চাকরি হারান বা স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন, তবে তারা বর্তমানে প্রচলিত সর্বোচ্চ ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বাড়তি সময় আর পাবেন না। এর ফলে কর্মসংস্থান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ১১ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে ‘এলিমিনেটিং দ্য ডিসক্রিশনারি সিক্সটি-ডে গ্রেস পিরিয়ড’ শিরোনামে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবনার ওপর জনমত সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কর্মভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের কর্মসংস্থান নির্ধারিত মেয়াদের আগে শেষ হয়ে গেলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী ৬০ দিন অবস্থান করার সুযোগ পান। ২০১৭ সালে প্রবর্তিত এই সুবিধাটি এতদিন বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করার বা প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সম্পন্ন করার সুযোগ দিয়ে আসছিল। তবে নতুন প্রস্তাবনায় এই সুযোগ রহিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই কঠোর নিয়মটি কার্যকর হলে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরা সরাসরি এর আওতায় পড়বেন। এর মধ্যে এইচ-১বি ভিসা প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও বিশেষায়িত পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এছাড়া বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও দক্ষ কর্মীদের জন্য এল-১, বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য মেধা সম্পন্নদের জন্য ও-১ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো চুক্তির আওতায় টিএন ভিসাধারীরা এই পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
প্রশাসন দাবি করেছে যে, এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কাজের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। বর্তমানে হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ার পর হাতে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা একজন কর্মীকে অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে এখন যেহেতু সরকার এই গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পরিকল্পনা করছে, তাই বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য মার্কিন শ্রমবাজারে টিকে থাকা আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডটি এখনো বলবৎ রয়েছে, তবে নতুন নিয়মের চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা নির্ভর করছে জনমত যাচাই ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সাল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এল-১ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য, ও-১ বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া ও শিল্পকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এবং টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাড। চাকরির আরও তথ্য: এ সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে, অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রভাব শুধু মূল ভিসাধারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংশ্লিষ্ট কর্মীর ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী-স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং কাজের অনুমতিও প্রভাবিত হতে পারে।

























