ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন পে স্কেলে বেতন পাবেন না যারা, প্রজ্ঞাপন জারি দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকায় ফিরছে বাটেক্সপো ২০২৬ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ঝরল চার প্রাণ আইআইটি মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মানিকগঞ্জে প্রবাসীসহ তিনজনের মৃত্যু: তদন্তে পুলিশ নিখোঁজ কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে নেমেছে পুলিশ মিছিলের প্রস্তুতির সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা ১৭ বছরে প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্যদের পাস করানো হয়েছে: রিজভী জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস জ্বালানি সংকটে ইউরোপ: বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহের উদ্বেগ

সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধের

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দিয়ে জানান, নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, এসব গণমাধ্যমের খবর পড়তে পড়তে মানুষ ক্লান্ত। সিএনএন ও এমএস নাউ-কে সরাসরি ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও অনেক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিযুক্ত গণমাধ্যমগুলো। সিএনএন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের কোনো ধরণের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের এই হুমকি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর একটি অবৈধ আঘাত। পলিটিকো জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সংবাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশনা চালিয়ে যাবে এবং প্রথম সংশোধনীতে প্রাপ্ত অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে। তবে এমএস নাউ এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। এর আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিরোধ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে কিছু ঘটনা আদালতেও গড়িয়েছে।

গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থান ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা। ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রয়োগ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে মূলত সংবাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চলছে। একে আইনি ভাষায় ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে টার্গেট করা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই অভিমত ব্যক্ত করে ফ্রিডম অব প্রেস ফাউন্ডেশনের সেথ স্টার্ন বলেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে পিপলস হাউস থেকে সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমের সংঘাত নতুন রূপ নিয়েছে। গত বছর এপির সাংবাদিকদের ওভাল অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় একটি আইনি লড়াই এখনো চলমান। এছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বিবিসির বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রচারের লাইসেন্স নবায়ন ইস্যুতে এবিসির সঙ্গেও তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। পলিটিক্যাল অ্যানালিস্টরা মনে করেন, পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কের হোয়াইট হাউস কাভারেজ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা জনগণের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকারকে ব্যাহত করতে পারে। পেন আমেরিকার টিম রিচার্ডসন বলেছেন, প্রথম সংশোধনী কীভাবে কার্যকর হয়, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নতুন করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব সংবাদমাধ্যমের খবর তার পছন্দ নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। (তাদের) ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে আপনি খুবই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি যখন সিএনএনের দিকে তাকান, (তখন দেখবেন) এটি শুধুই ভুয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই অনেক সংবাদমাধ্যম আছে এবং আরও কেউ হয়তো তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা হোয়াইট হাউসের নিজেদের সাংবাদিক দল এবং তাদের ন্যায্য ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের পক্ষে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধের

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দিয়ে জানান, নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের কারণে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, এসব গণমাধ্যমের খবর পড়তে পড়তে মানুষ ক্লান্ত। সিএনএন ও এমএস নাউ-কে সরাসরি ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও অনেক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিযুক্ত গণমাধ্যমগুলো। সিএনএন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারের কোনো ধরণের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের এই হুমকি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর একটি অবৈধ আঘাত। পলিটিকো জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সংবাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশনা চালিয়ে যাবে এবং প্রথম সংশোধনীতে প্রাপ্ত অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে। তবে এমএস নাউ এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। এর আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিরোধ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে কিছু ঘটনা আদালতেও গড়িয়েছে।

গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থান ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা। ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রয়োগ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে মূলত সংবাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চলছে। একে আইনি ভাষায় ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে টার্গেট করা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই অভিমত ব্যক্ত করে ফ্রিডম অব প্রেস ফাউন্ডেশনের সেথ স্টার্ন বলেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে পিপলস হাউস থেকে সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমের সংঘাত নতুন রূপ নিয়েছে। গত বছর এপির সাংবাদিকদের ওভাল অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় একটি আইনি লড়াই এখনো চলমান। এছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বিবিসির বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রচারের লাইসেন্স নবায়ন ইস্যুতে এবিসির সঙ্গেও তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। পলিটিক্যাল অ্যানালিস্টরা মনে করেন, পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কের হোয়াইট হাউস কাভারেজ ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা জনগণের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকারকে ব্যাহত করতে পারে। পেন আমেরিকার টিম রিচার্ডসন বলেছেন, প্রথম সংশোধনী কীভাবে কার্যকর হয়, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নতুন করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব সংবাদমাধ্যমের খবর তার পছন্দ নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। (তাদের) ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে আপনি খুবই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি যখন সিএনএনের দিকে তাকান, (তখন দেখবেন) এটি শুধুই ভুয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই অনেক সংবাদমাধ্যম আছে এবং আরও কেউ হয়তো তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা হোয়াইট হাউসের নিজেদের সাংবাদিক দল এবং তাদের ন্যায্য ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের পক্ষে।