চুয়েটে অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের উপস্থিতিতে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে আনা হয়। পরবর্তীতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করেন।
উদ্ধার অভিযান ও শিক্ষার্থীদের শর্ত
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ভিসিকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, একজন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে ভিসি নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে তাকে ঠিক কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ক্যাম্পাস ছাড়ার বিষয়ে একটি শর্ত দেন। সেখানে এক শিক্ষার্থী মাইকে ঘোষণা করেন যে, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আর কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না—এই শর্তেই তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতেই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার সময় আন্দোলনকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
আন্দোলনের পটভূমি ও অবরুদ্ধের কারণ
মূলত ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়। সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এর অংশ হিসেবে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিল, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাত্মক কাজকর্ম বন্ধের ঘোষণা দেন তারা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার সকালে সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন। এর প্রতিবাদে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করায় তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

























