ডেঙ্গুর ছোবলে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল, সচেতনতাই এখন একমাত্র বাঁচার পথ
- আপডেট সময় : ১০:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 265
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্কঃ
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ক্রমেই মারাত্মক আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৪২৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৮৩ জন আক্রান্ত এবং ৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়নের বিশৃঙ্খলা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে এবছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বিভাগেও আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
ডেঙ্গু মূলত এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশাগুলো সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বাড়ির ফুলের টব, ড্রাম, পুরনো টায়ার, খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি এসব জায়গাই মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।
ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত হঠাৎ করে উচ্চ জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, প্লেটলেট কমে যাওয়া, বা শক সিন্ড্রোম পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ মুনজারীন শাহনাজ বলেন,
“ডেঙ্গু এখন মৌসুমি রোগের সীমা ছাড়িয়ে মহামারীর রূপ নিয়েছে। প্রতিটি পরিবারকেই এখন সচেতন হতে হবে, কারণ প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যে কোনো জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ রোগীই বাড়িতে বিশ্রাম ও তরল গ্রহণে সুস্থ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। চিকিৎসা মূলত সহায়ক ধরণের —
*পর্যাপ্ত বিশ্রাম,
*প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ,
*নিয়মিত তাপমাত্রা ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ,
*গুরুতর অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনিরাপদভাবে ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক) ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
ব্যক্তিগতভাবে করণীয়:
*সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কিনা তা পরীক্ষা করা।
*ফুলের টব, বালতি, পুরনো টায়ার ইত্যাদিতে পানি জমতে না দেওয়া।
*সকাল ও বিকেলে মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করা।
*পূর্ণ হাত-পায়ের পোশাক পরা।
সামাজিকভাবে করণীয়:
*একসাথে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো।
*পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।
*গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো।
বিডিসংবাদ/এএইচএস




















