ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ল অক্টোবর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর বিদেশি কূটনীতির আবর্তে আচ্ছন্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জাতীয়করণের অপেক্ষায় মাদারীপুরের শতবর্ষী এনায়েতনগর মাদরাসা জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন মাহ্দী বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় শাহজালালে ৮১ লিটার বিদেশি মদসহ দুই যাত্রী আটক সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির স্ত্রীর জামিন মঞ্জুর মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ইআবি উপাচার্যের বিশেষ বৈঠক নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গ্রেপ্তার

তদবির ও পাওনার চাপে সংকটে বিমান বাংলাদেশ

  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তদবির, অনিয়ম এবং গভীর প্রশাসনিক জটিলতায় এক ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও পদ্মা অয়েলের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশ অমান্য করে সংস্থাটির ১৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরাও ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং যাত্রীসেবার মান নিয়ে নিয়মিত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিমান সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া পদ্মা অয়েলের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ পুরো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নিয়মিত কিস্তির অংশ হিসেবে প্রতি মাসে তারা ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করে আসছে।

প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমানের পার্সোনেল শাখার নেওয়া পদোন্নতির বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠতা ও বিদ্যমান বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীদের তদবিরের ভিত্তিতে এই ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে এই পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। প্রকৌশল শাখার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখার নির্দেশ থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে তদবির ও ক্ষমতার দাপটকেই পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে মেধাবীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক কার্যক্রমে। ফ্লাইট পরিচালনা থেকে শুরু করে কল সেন্টার ও টিকিট বুকিং সেবায় দুর্বলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত বছরগুলোতে তারা লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেবল যাত্রী পরিবহন থেকেই ৭৮৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর। এর পাশাপাশি আরও ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বেবিচকের এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, সংস্থা যদি সত্যিই রেকর্ড মুনাফা করে থাকে, তবে কেন বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতির এই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিকে সংস্থাটির কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও পদ্মা অয়েলের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তদবির ও পাওনার চাপে সংকটে বিমান বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদবির, অনিয়ম এবং গভীর প্রশাসনিক জটিলতায় এক ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও পদ্মা অয়েলের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশ অমান্য করে সংস্থাটির ১৩ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরাও ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং যাত্রীসেবার মান নিয়ে নিয়মিত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিমান সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া পদ্মা অয়েলের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিমান কর্তৃপক্ষ পুরো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নিয়মিত কিস্তির অংশ হিসেবে প্রতি মাসে তারা ২৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করে আসছে।

প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমানের পার্সোনেল শাখার নেওয়া পদোন্নতির বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠতা ও বিদ্যমান বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীদের তদবিরের ভিত্তিতে এই ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে এই পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। প্রকৌশল শাখার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখার নির্দেশ থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে তদবির ও ক্ষমতার দাপটকেই পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে মেধাবীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক কার্যক্রমে। ফ্লাইট পরিচালনা থেকে শুরু করে কল সেন্টার ও টিকিট বুকিং সেবায় দুর্বলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত বছরগুলোতে তারা লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেবল যাত্রী পরিবহন থেকেই ৭৮৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর। এর পাশাপাশি আরও ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বেবিচকের এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, সংস্থা যদি সত্যিই রেকর্ড মুনাফা করে থাকে, তবে কেন বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতির এই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিকে সংস্থাটির কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও পদ্মা অয়েলের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।