ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি ইয়েমেনে সংঘাত বন্ধে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চায় হুথিরা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাড্ডায় জামায়াতের বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের হার উদযাপন করছে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর চাঙ্গা বিশ্ববাজার, দর কমল ডলারের

নরসিংদীতে বরেণ্য কবি সাহিত্যিক ছড়াকার আবু আসাদ’র জন্মবার্ষিকী পালিত

  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০১৭
  • / 494
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদীতে শিবপুর উপজেলার খৈশাখালী গ্রামের কবি ও ছড়াকার আবু আসাদ’র ৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে নোয়াদিয়া কে, এইচ, বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে, নোয়াদিয়া কমল-কলি নাট্যগোষ্ঠী, কবি আবু আসাদ একাডেমীসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্দ্যোগে আলোচনা সভা, স্মরণ-সভা, মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া’র আয়োজন করা হয়েছে।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, মরহুম কবি আবু আসাদ’র স্মৃতি বিজড়িত একাডেমী’র অব-কাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে বে-হাল দশায় পরিনত হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশের ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় শির্ক্ষাথীসহ দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা কবি আবু আসাদ’র স্মৃতি একাডেমীতে পাঠ গ্রহনে আগ্রহী হবে। তাদের দাবী কবি আবু আসাদের ব্যবহৃত বই-পত্র সংরক্ষন করে রাখা হলে আগামী প্রজন্মের কোমলমতি শিশুরা দেশপ্রেমের প্রতি উৎসাহী হত। মরহুম কবি আবু আসাদ’র লেখা অপ্রকাশিত ও প্রকাশিত কবিতাসহ ছড়াগুলো সংরক্ষণে তার নিজ বাড়ীতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গণগ্রন্থাগার নির্মানের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
২৯শে বৈশাখ বাংলা ১৩৫৯ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন।

তার পিতার নাম ইন্তাজ আলী মিয়া ও মাতার নাম আমিনা খানম। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। মরহুম কবি আবু আসাদের পিতা সাহিত্য প্রেমিক ছিলেন। ডাকযোগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বই সংগ্রহ করে পড়তেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ছিলেন একজন উৎসাহী ও একনিষ্ঠ পাঠক। আবু আসাদের ডাক নাম ছিল বাচ্চু। শৈশব থেকেই আবু আসাদ বাচ্চু বাবার সংগৃহীত বই-পত্র পড়ে ক্রমশ সাহিত্যের প্রতি লেখালেখির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
কিশোর বয়সেই তিনি ছড়া ও কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন তার  জীবনের প্রথম ছড়া কবিতা “অতীতের স্মৃতি’ লিখেন। স্বাধীনতার পর নোয়াদিয়ায় কমল-কলি নাট্যগোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে তার সম্পাদনা ও পরিচালনায় যাত্রা নাটক “জোসনা-তারা” মঞ্চস্থ হয়।

তার রচিত যাত্রা নাট্য গ্রন্থ “ঊষা রানী প্রদীপ কুমার” এবং “বাঘ কন্যা বনকুমারী” প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময় থেকে তার লেখা ছড়া ও কবিতা জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় থেকে  ছড়া-গীতি-নাটিকায়   পুরস্কৃত হন। ১৯৮৮ সালের ২৬ আগষ্ট তিনি সর্বপ্রথম ‘বর্ষা এলো বৃষ্টি এলো’ গীতি নাটকটি বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের কলকাকলী থেকে সম্প্রচারিত হয়। তিনি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘সৌরভে গৌরভে’ অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন। ১৯৮০ সাল থেকে কবি আবু আসাদ  নোয়াদিয়া কে, এইচ, বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিশু-কিশোররা সুন্দরভাবে বিকশিতসহ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও মুক্তচিন্তার অধিকারী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৯৯৩ সালে ‘ভোরের পাখি’ নামক একটি শিশু সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারী দেশবরেণ্য কবি ও ছড়াকার আবু আসাদ না ফেরার দেশে চলে যান। চিরকুমার মরহুম কবি আবু আসাদ জীবদ্বশায় ৫৭ বছরের সাদা-মাটা কর্মময় জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কবি আবু আসাদ বাচ্চু’র  মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তার  নিজ বাড়ীতে কবি আবু আসাদ একাডেমী  ও স্মৃতিসৌধ স্থাপিত হয়। শিবপুর উপজেলাধীন আয়েছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আজরাফ আলী ও কবি আবু আসাদের ছোট ভাই খোকাসহ শুভাকাঙ্খী মহলের  তত্ত্বাবধানে কবি আসাদ একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ একাডেমীতে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয়। বর্তমানে মরহুম কবি আবু আসাদ একাডেমীতে ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার  আবু আসাদের প্রকাশিত ছড়াগুলো আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত শিশু-কিশোরদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদের আলোকিত করতে পারলে বরেণ্য কবি’র শ্রম ও স্বপ্ন স্বার্থক হয়ে উঠবে এবং বেচে থাকবেন চিরকাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীতে বরেণ্য কবি সাহিত্যিক ছড়াকার আবু আসাদ’র জন্মবার্ষিকী পালিত

আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০১৭

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদীতে শিবপুর উপজেলার খৈশাখালী গ্রামের কবি ও ছড়াকার আবু আসাদ’র ৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে নোয়াদিয়া কে, এইচ, বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে, নোয়াদিয়া কমল-কলি নাট্যগোষ্ঠী, কবি আবু আসাদ একাডেমীসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্দ্যোগে আলোচনা সভা, স্মরণ-সভা, মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া’র আয়োজন করা হয়েছে।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, মরহুম কবি আবু আসাদ’র স্মৃতি বিজড়িত একাডেমী’র অব-কাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে বে-হাল দশায় পরিনত হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশের ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় শির্ক্ষাথীসহ দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা কবি আবু আসাদ’র স্মৃতি একাডেমীতে পাঠ গ্রহনে আগ্রহী হবে। তাদের দাবী কবি আবু আসাদের ব্যবহৃত বই-পত্র সংরক্ষন করে রাখা হলে আগামী প্রজন্মের কোমলমতি শিশুরা দেশপ্রেমের প্রতি উৎসাহী হত। মরহুম কবি আবু আসাদ’র লেখা অপ্রকাশিত ও প্রকাশিত কবিতাসহ ছড়াগুলো সংরক্ষণে তার নিজ বাড়ীতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গণগ্রন্থাগার নির্মানের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
২৯শে বৈশাখ বাংলা ১৩৫৯ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন।

তার পিতার নাম ইন্তাজ আলী মিয়া ও মাতার নাম আমিনা খানম। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। মরহুম কবি আবু আসাদের পিতা সাহিত্য প্রেমিক ছিলেন। ডাকযোগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বই সংগ্রহ করে পড়তেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ছিলেন একজন উৎসাহী ও একনিষ্ঠ পাঠক। আবু আসাদের ডাক নাম ছিল বাচ্চু। শৈশব থেকেই আবু আসাদ বাচ্চু বাবার সংগৃহীত বই-পত্র পড়ে ক্রমশ সাহিত্যের প্রতি লেখালেখির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
কিশোর বয়সেই তিনি ছড়া ও কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন তার  জীবনের প্রথম ছড়া কবিতা “অতীতের স্মৃতি’ লিখেন। স্বাধীনতার পর নোয়াদিয়ায় কমল-কলি নাট্যগোষ্ঠী গঠনের মাধ্যমে তার সম্পাদনা ও পরিচালনায় যাত্রা নাটক “জোসনা-তারা” মঞ্চস্থ হয়।

তার রচিত যাত্রা নাট্য গ্রন্থ “ঊষা রানী প্রদীপ কুমার” এবং “বাঘ কন্যা বনকুমারী” প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময় থেকে তার লেখা ছড়া ও কবিতা জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয় থেকে  ছড়া-গীতি-নাটিকায়   পুরস্কৃত হন। ১৯৮৮ সালের ২৬ আগষ্ট তিনি সর্বপ্রথম ‘বর্ষা এলো বৃষ্টি এলো’ গীতি নাটকটি বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের কলকাকলী থেকে সম্প্রচারিত হয়। তিনি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘সৌরভে গৌরভে’ অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন। ১৯৮০ সাল থেকে কবি আবু আসাদ  নোয়াদিয়া কে, এইচ, বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিশু-কিশোররা সুন্দরভাবে বিকশিতসহ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও মুক্তচিন্তার অধিকারী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি ১৯৯৩ সালে ‘ভোরের পাখি’ নামক একটি শিশু সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারী দেশবরেণ্য কবি ও ছড়াকার আবু আসাদ না ফেরার দেশে চলে যান। চিরকুমার মরহুম কবি আবু আসাদ জীবদ্বশায় ৫৭ বছরের সাদা-মাটা কর্মময় জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কবি আবু আসাদ বাচ্চু’র  মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তার  নিজ বাড়ীতে কবি আবু আসাদ একাডেমী  ও স্মৃতিসৌধ স্থাপিত হয়। শিবপুর উপজেলাধীন আয়েছ আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আজরাফ আলী ও কবি আবু আসাদের ছোট ভাই খোকাসহ শুভাকাঙ্খী মহলের  তত্ত্বাবধানে কবি আসাদ একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ একাডেমীতে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয়। বর্তমানে মরহুম কবি আবু আসাদ একাডেমীতে ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার  আবু আসাদের প্রকাশিত ছড়াগুলো আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত শিশু-কিশোরদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদের আলোকিত করতে পারলে বরেণ্য কবি’র শ্রম ও স্বপ্ন স্বার্থক হয়ে উঠবে এবং বেচে থাকবেন চিরকাল।