পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
পোশাকশিল্পে বর্তমানে যে অস্থিরতা ও সহিংসতা চলছে, তা কোনো সাধারণ শ্রমিক আন্দোলন নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মূলত একটি রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পাশাপাশি মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত চক্রান্ত বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সরকার এসব রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশনা দিয়েছে।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং এর পেছনে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি সরাসরি হামলা ও অগ্নিসংযোগে যুক্ত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি মাফিয়া ও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এই চক্রান্তের পেছনে সক্রিয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কোনো অমীমাংসিত ইস্যু নেই। শ্রমিকদের প্রধান দাবি অনুযায়ী নতুন মজুরি বোর্ড ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এর প্রথম সভাও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই বোর্ড কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই শ্রমিকদের কল্যাণকে সরকার সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সময় আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি নাম প্রদানে কিছুটা সময় নেওয়ায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হলেও, নাম পাওয়ার পর পরই মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই এর প্রথম সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের রফতানি বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা হওয়া সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত সংযম প্রদর্শন করছেন এবং বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকছেন। তবে দেশের শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে এবং জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় মাফিয়া ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা গুজবে কান না দিয়ে শ্রমিকরা যেন অবিলম্বে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেন। শ্রমিকরা কাজে ফিরলে তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সুরক্ষিত থাকবে।
সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

























