পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সহায়তা চায় বিজিএমইএ
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 2
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ সময় শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয় তুলে ধরে।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর নেতারা বৈঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি শিল্পের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
তারা উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সরকারি সেবাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
এছাড়া কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ, গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় খাসজমি বরাদ্দ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) বাস্তবায়ন সহজ করা এবং বেনাপোল স্থলবন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী ‘বাটেক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি তাতে সম্মতি জানান।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্কুলার অর্থনীতি নীতির আলোকে পোশাক খাতে শতভাগ বস্ত্রবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় বিজিএমইএ নেতারা টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে সংগঠনটির চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি শিল্পের সুরক্ষা, সচল কারখানার স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
বিজিএমইএর উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের জন্য বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডিসংবাদ/এএইচএস



















