বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙ্গন: ৫শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন
- আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭
- / 296
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ যমুনা নদীর টাঙ্গাইল ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার যমুনাতীরবর্তী এলাকায় বর্ষার শুরুতেই ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। কালিহতীর কিছু অংশ ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় যমুনা ভাঙনে গত কয়েক দিনে পাচ শতাধিক ঘর-বাড়ি। শতশত একর ফসলী জমি ও কলা বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পারের মানুষ।যমুনা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর বর্ষার শুরু হওয়ার সাথে সাথেই নদীর দু’পাড়ে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়।এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন যমুনা পাড়ের মানুষরা।ভূঞাপুরের নদী ভাঙন ঠেকাতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে পক্ষ থেকে গত বছর ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও নানা অনিময় ও দুর্নীতির কারনে তা কোন কাজে আসেনি।
জানা গেছে, বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কালিহাতী উপজেলার যমুনাতীরবর্তী দূর্গাপুর ও সল্লা ইউনিয়নের কিছু অংশ ও ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর, রাজাপুর, সরইপাড়া, ফলদা পাড়া, ভূঞাপাড়া ও অর্জুনা ইউনিয়নের অর্জুনা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে এসব এলাকার শতশত পরিবার গৃহহীন ও কয়েকশ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।নিজেদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পরিবারগুলো। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের হাজারো মানুষ। প্রতিবছর বন্যা আসার আগে অর্জুনা গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দায়সারা সংস্কার কাজ করে থাকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। অভিযোগ রয়েছে বাঁধ সংস্কারের জন্য যত টাকা বরাদ্দ হয়, এর অর্ধেক টাকাও বাঁধ সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হয় না। সম্প্রতি নদীর পাড় দিয়ে মাটি মিশ্রিত বালু ফেলে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ অংশটুকু নামমাত্র মোরামত করেছে র্কর্তৃপক্ষ। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে।। যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনাসহ জামালপুরের পিংনা থেকে টাঙ্গাইলের জোকারচর পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এর আগে স্থানীয় এমপি বাঁধটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পুরো বাঁধ নির্মাণ আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রকৗশলী (সেন্ট্রাল জোন) মো. ফখরুল ইসলাম যমুনার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।এসময় তিনি সংস্কার কাজের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তীব্র ভাঙনে জিও ব্যাগ কার্যকর নয়।আগামী বছর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

























