ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের প্রথম শিশুদের ম্যালেরিয়ার ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 80
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস (২৫ এপ্রিল) উপলক্ষে ৫ কেজির কম ওজনের নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়ার ওষুধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় লাখো শিশুর মৃত্যু রোধে এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্টিমেথার ও লুমেফ্যান্ট্রিনের সংমিশ্রণে তৈরি এই নতুন ওষুধটি ছোট শিশুদের জন্য নিরাপদ। এর আগে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বড়দের জন্য তৈরি ওষুধের ডোজ ভেঙে দেওয়া হতো, যার ফলে ডোজ ভুল হওয়া এবং বিষক্রিয়ার প্রবল ঝুঁকি ছিল।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এবং মোট ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই এই বয়সী। এছাড়া, গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়ার কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়, ২ লাখ শিশু মৃত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং ৫ লাখ ৫০ হাজার শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায়। ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয় এবং ৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

বিশ্বের ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রতি ১০টির মধ্যে ৯টিই ঘটে সাব-সাহারান আফ্রিকায়। ডব্লিউএইচওর এই অনুমোদনের ফলে এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় ওষুধ সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পারবে।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া মানুষের জীবন ও আশা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিন্তু এখন সেই গল্প বদলাচ্ছে।” এর পাশাপাশি এপ্রিলের শুরুতে ডব্লিউএইচও ম্যালেরিয়া শনাক্তের জন্য তিনটি নতুন র‍্যাপিড টেস্টেরও অনুমোদন দিয়েছে, যা ভুল রিপোর্টের হার কমিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসায় সহায়তা করবে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বের প্রথম শিশুদের ম্যালেরিয়ার ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস (২৫ এপ্রিল) উপলক্ষে ৫ কেজির কম ওজনের নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়ার ওষুধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় লাখো শিশুর মৃত্যু রোধে এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্টিমেথার ও লুমেফ্যান্ট্রিনের সংমিশ্রণে তৈরি এই নতুন ওষুধটি ছোট শিশুদের জন্য নিরাপদ। এর আগে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বড়দের জন্য তৈরি ওষুধের ডোজ ভেঙে দেওয়া হতো, যার ফলে ডোজ ভুল হওয়া এবং বিষক্রিয়ার প্রবল ঝুঁকি ছিল।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এবং মোট ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই এই বয়সী। এছাড়া, গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়ার কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়, ২ লাখ শিশু মৃত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং ৫ লাখ ৫০ হাজার শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায়। ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয় এবং ৫ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

বিশ্বের ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রতি ১০টির মধ্যে ৯টিই ঘটে সাব-সাহারান আফ্রিকায়। ডব্লিউএইচওর এই অনুমোদনের ফলে এখন থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় ওষুধ সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পারবে।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া মানুষের জীবন ও আশা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিন্তু এখন সেই গল্প বদলাচ্ছে।” এর পাশাপাশি এপ্রিলের শুরুতে ডব্লিউএইচও ম্যালেরিয়া শনাক্তের জন্য তিনটি নতুন র‍্যাপিড টেস্টেরও অনুমোদন দিয়েছে, যা ভুল রিপোর্টের হার কমিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসায় সহায়তা করবে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।