ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি কর্মীকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 117
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মুশফিকুর রহমান আবির নামে এক বিএনপি কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আজ এ মামলা করেন ভুক্তভোগী মুশফিকুর রহমান আবির। আদালত পল্টন থানাকে মামলার এজাহার গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

আজ আদালতের পেশকার শিশির হাওলাদার বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১০ আসনের সাবেক এমপি শফিউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলাবাগান এলাকায় প্রচারণা চলতে থাকে। মামলার বাদী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে আসামিরা বাদীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, কিল ঘুষি মারা শুরু করলে বাদী বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এরপর বাদীকে হাজারিবাগের একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর বাদীর পিতার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে নেয় এবং পরের দিন ৫ ডিসেম্বর সকালে বাদীকে তারা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে বাদী জানতে পারেন তারা ছিল মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনী।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন স্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠতে থাকে এবং সেখানে বাদী যোগ দেয়। সমাবেশকে পণ্ড করতে ওইদিন হঠাৎ হামলা শুরু করে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগীরা। সমাবেশ স্থলে সরাসরি গুলি টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু হয়। সাধারণ নেতা কর্মীরা দিশেহারা হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে। বাদী সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কলাবাগানে নিজ বাসায় ফিরে আসেন। তার একদিন পরেই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বোচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীরাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাদীর বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং তার অসুস্থ শরীরে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে বাদী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর বাদী নিজেকে কলাবাগান থানা হাজতে দেখতে পান। সেদিন রাতেই বাদীর বাবার সঙ্গে তখনকার দায়িত্বরত ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন এবং বাদীর বাবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে নানান রকম হুমকি দেয়। পরের দিন কোর্টে চালান করার পর রিমান্ডে চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২২ দিন অসুস্থ শরীরে জেল খেটে জামিন পান বাদী।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিএনপি কর্মীকে হত্যাচেষ্টা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মুশফিকুর রহমান আবির নামে এক বিএনপি কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আজ এ মামলা করেন ভুক্তভোগী মুশফিকুর রহমান আবির। আদালত পল্টন থানাকে মামলার এজাহার গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

আজ আদালতের পেশকার শিশির হাওলাদার বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১০ আসনের সাবেক এমপি শফিউল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলাবাগান এলাকায় প্রচারণা চলতে থাকে। মামলার বাদী প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে আসামিরা বাদীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, কিল ঘুষি মারা শুরু করলে বাদী বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এরপর বাদীকে হাজারিবাগের একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর বাদীর পিতার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে নেয় এবং পরের দিন ৫ ডিসেম্বর সকালে বাদীকে তারা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে বাদী জানতে পারেন তারা ছিল মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনী।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন স্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠতে থাকে এবং সেখানে বাদী যোগ দেয়। সমাবেশকে পণ্ড করতে ওইদিন হঠাৎ হামলা শুরু করে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগীরা। সমাবেশ স্থলে সরাসরি গুলি টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু হয়। সাধারণ নেতা কর্মীরা দিশেহারা হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে। বাদী সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কলাবাগানে নিজ বাসায় ফিরে আসেন। তার একদিন পরেই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বোচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীরাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাদীর বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট করে এবং তার অসুস্থ শরীরে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে বাদী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর বাদী নিজেকে কলাবাগান থানা হাজতে দেখতে পান। সেদিন রাতেই বাদীর বাবার সঙ্গে তখনকার দায়িত্বরত ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন এবং বাদীর বাবার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে নানান রকম হুমকি দেয়। পরের দিন কোর্টে চালান করার পর রিমান্ডে চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২২ দিন অসুস্থ শরীরে জেল খেটে জামিন পান বাদী।
বিডিসংবাদ/এএইচএস