ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভুটানকে হারিয়ে জয় দিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের সাঁথিয়ায় ভাগ্নিকে নিরাপত্তা ঘটনায়: মামা আটক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয়র প্রয়াণ ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে স্বৈরাচারী শক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় ২৫ মাসে ২২৫ মৃত্যুর ঘটনা: অপরাধের স্বর্গরাজ্যে আতঙ্কিত জনজীবন শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের বড় অংশীদারত্ব খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে বিএনপি নেতার ছেলেকে মৃত্যুর ঘটনায় বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু

বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুনে ওষুধ শিল্পে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি

  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 250
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের শীর্ষ ৪৫টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির ধারণা, এই ঘটনার ফলে দেশের ওপর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে, ওষুধের দাম বাড়ানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাপির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিমেড ইউনিহেলথের চেয়ারম্যান ও বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম. মোসাদ্দেক হোসেন, এবং ডেল্টা ফার্মার মহাব্যবস্থাপক ও বাপির মহাসচিব জাকির হোসেন।

জাকির হোসেন বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল নষ্ট হয়েছে।
এর প্রভাব পুরো ওষুধ শিল্পে পড়বে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার জাতীয় ওষুধ উৎপাদনে।”

তিনি আরও বলেন, পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে নারকোটিকস বিভাগের অনুমোদিত পণ্যও ছিল — যা পুনরায় আমদানি করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া।

যদিও ক্ষতির পরিমাণ বিপুল, বাপির নেতারা জানিয়েছেন, ওষুধের দাম বা সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না।
দেশের ফার্মা কোম্পানিগুলো মজুত পণ্য ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখবে।

বাপি মহাসচিব ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন ওষুধ শিল্পখাতের সুরক্ষায়।
মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে –

  • আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং ইতিমধ্যে শুল্ক, ডিউটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট দেওয়া পণ্যের অর্থ ফেরত দেওয়া
  • ব্যাংক চার্জ, সুদ ও মার্জিন মওকুফ করে সহজ শর্তে এলসি খোলার সুযোগ
  • ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর মওকুফ
  • নারকোটিকস অনুমোদিত পণ্য দ্রুত পুনরায় আমদানির অনুমতি
  • বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও রাসায়নিক গুদাম স্থাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রেনেটা লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ও বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ কায়সার কবীর,হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান, নিপ্রো-জেএমআই ফার্মার এমডি আব্দুর রাজ্জাক, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক ফাহিম সিনহা, ওয়ান ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুনে ওষুধ শিল্পে ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫


ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের শীর্ষ ৪৫টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির ধারণা, এই ঘটনার ফলে দেশের ওপর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে, ওষুধের দাম বাড়ানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাপির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিমেড ইউনিহেলথের চেয়ারম্যান ও বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম. মোসাদ্দেক হোসেন, এবং ডেল্টা ফার্মার মহাব্যবস্থাপক ও বাপির মহাসচিব জাকির হোসেন।

জাকির হোসেন বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল নষ্ট হয়েছে।
এর প্রভাব পুরো ওষুধ শিল্পে পড়বে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোন, ডায়াবেটিক ও ক্যানসার জাতীয় ওষুধ উৎপাদনে।”

তিনি আরও বলেন, পুড়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে নারকোটিকস বিভাগের অনুমোদিত পণ্যও ছিল — যা পুনরায় আমদানি করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া।

যদিও ক্ষতির পরিমাণ বিপুল, বাপির নেতারা জানিয়েছেন, ওষুধের দাম বা সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না।
দেশের ফার্মা কোম্পানিগুলো মজুত পণ্য ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখবে।

বাপি মহাসচিব ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন ওষুধ শিল্পখাতের সুরক্ষায়।
মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে –

  • আগুনে পুড়ে যাওয়া এবং ইতিমধ্যে শুল্ক, ডিউটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট দেওয়া পণ্যের অর্থ ফেরত দেওয়া
  • ব্যাংক চার্জ, সুদ ও মার্জিন মওকুফ করে সহজ শর্তে এলসি খোলার সুযোগ
  • ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর মওকুফ
  • নারকোটিকস অনুমোদিত পণ্য দ্রুত পুনরায় আমদানির অনুমতি
  • বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও রাসায়নিক গুদাম স্থাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রেনেটা লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ও বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ কায়সার কবীর,হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান, নিপ্রো-জেএমআই ফার্মার এমডি আব্দুর রাজ্জাক, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক ফাহিম সিনহা, ওয়ান ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান প্রমুখ।