বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ ক্রয়: স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে আইনি নোটিস
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিস প্রদান করেন। নোটিসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে এই উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রস্তাবিত এই বহরে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই উড়োজাহাজগুলোর সম্মিলিত তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনজীবী সারওয়ার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইনজীবী তার নোটিসে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এয়ারবাসসহ অন্যান্য উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া, উড়োজাহাজ কেনার আগে বিমানের প্রকৃত বহরের প্রয়োজনীয়তা, বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাহিদা, আসন ব্যবহারের হার বা লোড ফ্যাক্টর, খালি আসনের পরিসংখ্যান এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারের পরিস্থিতি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন, খেলাপি ঋণ এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই বিনিয়োগের ‘অপরচুনিটি কস্ট’ বা সুযোগ ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। চুক্তি ও সম্ভাব্যতা যাচাইসংক্রান্ত নথি প্রকাশ না করার বিষয়টিও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে করদাতা হিসেবে জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টার মোস্তফা মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার বোয়িং ক্রয়সংক্রান্ত সব ফাইল, কার্যবিবরণী, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন সংরক্ষণ ও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশ না করলে এবং স্বাধীন যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা হলে তিনি রিট মামলা দায়ের করবেন বলে সতর্ক করেছেন।





















