ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহরে নতুন এয়ারবাস এ৩২১এলআর যোগ করছে কাতার এয়ারওয়েজ নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের হামলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই অনুমোদন দিল এনসিসিসি খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোমবার থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে নতুন আতঙ্ক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দেবেন হুমায়ুন কবির ৩৪ দিন পর ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

মনপুরায় ৬৬ বছরেও কাটেনি মাদরাসার অবকাঠামো সংকট

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসার অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান দীর্ঘ ছয় দশকেও হয়নি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টিনশেড ঘরে চলে আসছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম। বর্তমানে পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও প্রতিষ্ঠানের আবকাঠামো সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ সময় পর ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি একতলা পাকা ভবন তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আরও একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি এখনো পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। বর্তমানে মাদরাসায় মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে একটি পাকা ভবনের অবস্থাও বেশ জরাজীর্ণ। কয়েক দফা মেরামত করেও সংকট কাটানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখন এতটাই জরাজীর্ণ যে- বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদানে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থী মো. ইমরান জানান, বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে এবং জানালা না থাকায় বাইরের পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে, যা ক্লাস করার অনুপযোগী। মাহবুবা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছাত্রীদের জন্য কোনো কমন রুম নেই এবং অনেক সময় একই কক্ষে দুটি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। বৃষ্টির সময় টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোসলেউদ্দিন জানান, পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কক্ষের অভাব প্রবল। বর্তমান পরিবেশ পাঠদানের জন্য মোটেও সহায়ক নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, মনপুরা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘকাল ধরে অবহেলার শিকার। পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই সংখ্যক কক্ষ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের মতে, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি মনপুরা উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন পায়নি। এর মধ্যে অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ডিজিটাল আইসিটি ল্যাবসহ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যায়ের পাঠদানের জন্য কক্ষ রয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্বাধীনতার আগের এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মনপুরায় ৬৬ বছরেও কাটেনি মাদরাসার অবকাঠামো সংকট

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসার অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান দীর্ঘ ছয় দশকেও হয়নি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টিনশেড ঘরে চলে আসছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম। বর্তমানে পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও প্রতিষ্ঠানের আবকাঠামো সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ সময় পর ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি একতলা পাকা ভবন তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আরও একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি এখনো পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। বর্তমানে মাদরাসায় মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে একটি পাকা ভবনের অবস্থাও বেশ জরাজীর্ণ। কয়েক দফা মেরামত করেও সংকট কাটানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখন এতটাই জরাজীর্ণ যে- বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদানে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থী মো. ইমরান জানান, বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে এবং জানালা না থাকায় বাইরের পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে, যা ক্লাস করার অনুপযোগী। মাহবুবা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছাত্রীদের জন্য কোনো কমন রুম নেই এবং অনেক সময় একই কক্ষে দুটি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। বৃষ্টির সময় টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোসলেউদ্দিন জানান, পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কক্ষের অভাব প্রবল। বর্তমান পরিবেশ পাঠদানের জন্য মোটেও সহায়ক নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, মনপুরা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘকাল ধরে অবহেলার শিকার। পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই সংখ্যক কক্ষ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের মতে, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি মনপুরা উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন পায়নি। এর মধ্যে অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ডিজিটাল আইসিটি ল্যাবসহ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যায়ের পাঠদানের জন্য কক্ষ রয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্বাধীনতার আগের এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।