ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের দিদারুল ইসলাম

  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / 279
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি অফিস ভবনে বন্দুকধারীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে পার্ক অ্যাভিনিউর একটি বহুতল অফিস ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন গুরুতর আহত হন। হামলার পর বন্দুকধারী নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার নাম দিদারুল ইসলাম (৩৬)। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তিন বছর ছয় মাস কর্মরত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য, ছুটিতে থাকাকালীন তিনি ওই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন।  দিদারুলের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বলে জানান তিনি।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, ‘তিনি যেমন বেঁচে ছিলেন, তেমনই বিদায় নিয়েছেন—একজন বীরের মতো।’দিদারুল ইসলামের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তাঁদের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর নাম শেন তামুরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের বাসিন্দা এবং তার মানসিক সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, “পাঁচজন নিরপরাধ মানুষকে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।”

নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী শেন তামুরা একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি থেকে নেমে এম৪ রাইফেল হাতে ভবনের দিকে এগিয়ে যান। ভবনে ঢুকেই তিনি দিদারুল ইসলামের ওপর গুলি চালান এবং এক নারীকে গুলি করেন, যিনি আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরপর ভবনের লবিতে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন।

পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারী এরপর এলিভেটরের দিকে গিয়ে নিরাপত্তা ডেস্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী ও আরেকজনকে গুলি করেন। পরে ৩৩ তলায় উঠে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গিয়ে একজনকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেন।

ঘটনাস্থলে পাওয়া গাড়ি থেকে একটি রাইফেল কেস, একটি রিভলভার, বেশ কিছু গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্ক ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই ভবনে দেশের শীর্ষ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)-এর অফিস রয়েছে।

এ সময় ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি উপস্থাপনায় অংশ নিচ্ছিলেন জেসিকা চেন নামের এক নারী। তিনি বলেন, “আমরা হঠাৎ নিচ থেকে গুলির শব্দ শুনে সবাই একটি কনফারেন্স রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিই।”

ঘটনার পর ভবনটি থেকে মানুষজনকে হাত উঁচিয়ে বের হতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা যায়।

পুলিশ কমিশনার জানান, ভবনটিতে নিউইয়র্ক পুলিশের দুটি বাহিনী বেসরকারিভাবে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল।

ঘটনার পর শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ওই এলাকায় যান চলাচলে সতর্কতা জারি করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্কে গুলি সংক্রান্ত সহিংসতা ও খুনের হার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের দিদারুল ইসলাম

আপডেট সময় : ১১:৩৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি অফিস ভবনে বন্দুকধারীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে পার্ক অ্যাভিনিউর একটি বহুতল অফিস ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন গুরুতর আহত হন। হামলার পর বন্দুকধারী নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার নাম দিদারুল ইসলাম (৩৬)। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে তিন বছর ছয় মাস কর্মরত ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য, ছুটিতে থাকাকালীন তিনি ওই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন।  দিদারুলের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বলে জানান তিনি।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, ‘তিনি যেমন বেঁচে ছিলেন, তেমনই বিদায় নিয়েছেন—একজন বীরের মতো।’দিদারুল ইসলামের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তাঁদের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর নাম শেন তামুরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের বাসিন্দা এবং তার মানসিক সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, “পাঁচজন নিরপরাধ মানুষকে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।”

নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী শেন তামুরা একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি থেকে নেমে এম৪ রাইফেল হাতে ভবনের দিকে এগিয়ে যান। ভবনে ঢুকেই তিনি দিদারুল ইসলামের ওপর গুলি চালান এবং এক নারীকে গুলি করেন, যিনি আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এরপর ভবনের লবিতে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন।

পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারী এরপর এলিভেটরের দিকে গিয়ে নিরাপত্তা ডেস্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী ও আরেকজনকে গুলি করেন। পরে ৩৩ তলায় উঠে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গিয়ে একজনকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেন।

ঘটনাস্থলে পাওয়া গাড়ি থেকে একটি রাইফেল কেস, একটি রিভলভার, বেশ কিছু গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্ক ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওই ভবনে দেশের শীর্ষ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)-এর অফিস রয়েছে।

এ সময় ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি উপস্থাপনায় অংশ নিচ্ছিলেন জেসিকা চেন নামের এক নারী। তিনি বলেন, “আমরা হঠাৎ নিচ থেকে গুলির শব্দ শুনে সবাই একটি কনফারেন্স রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিই।”

ঘটনার পর ভবনটি থেকে মানুষজনকে হাত উঁচিয়ে বের হতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা যায়।

পুলিশ কমিশনার জানান, ভবনটিতে নিউইয়র্ক পুলিশের দুটি বাহিনী বেসরকারিভাবে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল।

ঘটনার পর শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ওই এলাকায় যান চলাচলে সতর্কতা জারি করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্কে গুলি সংক্রান্ত সহিংসতা ও খুনের হার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল।