ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড! এর পিছনে রহস্য কী?

  • আপডেট সময় : ০৩:২১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / 1056
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ কোটি ডলারে। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয় ৩৯ কোটি ডলার, এবং সর্বশেষ অক্টোবরে এই আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলার।

অর্থাৎ, জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে আয় বেড়েছে ২৬ কোটি ডলার, যা প্রায় দ্বিগুণ। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে। ইউএই থেকে প্রবাসী আয় আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩৩ থেকে ৩৬ কোটি ডলারের মধ্যে অবস্থান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের শীর্ষ প্রবাসী আয় প্রেরণকারী দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি শুরু হয় আগস্ট মাস থেকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রবাসীরা আবার রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা প্রবাসীদের আস্থার পুনঃস্থাপনে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া প্রবাসী আয় প্রেরণের বৈশ্বিক পদ্ধতিতেও পরিবর্তন হয়েছে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও মানিগ্রামের মতো বড় প্রতিষ্ঠান সমন্বিত পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ের অঙ্ক বড় আকারে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার প্রশাসনের আগের মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি থাকায় অনেক প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ বেড়েছিল। তবে, ব্যবসায়িক নীতির পরিবর্তন ও কর সুবিধার কারণে কিছু বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সেই সময় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

বর্তমানে প্রবাসীরা ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য অভিবাসন নীতির পুনর্গঠন নিয়ে চিন্তিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মজীবীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারের উচিত প্রবাসীদের জন্য সহজ ও দ্রুত রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে, অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

শেষমেশ, রেমিট্যান্সের এমন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড! এর পিছনে রহস্য কী?

আপডেট সময় : ০৩:২১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ কোটি ডলারে। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয় ৩৯ কোটি ডলার, এবং সর্বশেষ অক্টোবরে এই আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলার।

অর্থাৎ, জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে আয় বেড়েছে ২৬ কোটি ডলার, যা প্রায় দ্বিগুণ। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে। ইউএই থেকে প্রবাসী আয় আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩৩ থেকে ৩৬ কোটি ডলারের মধ্যে অবস্থান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের শীর্ষ প্রবাসী আয় প্রেরণকারী দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি শুরু হয় আগস্ট মাস থেকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রবাসীরা আবার রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা প্রবাসীদের আস্থার পুনঃস্থাপনে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া প্রবাসী আয় প্রেরণের বৈশ্বিক পদ্ধতিতেও পরিবর্তন হয়েছে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও মানিগ্রামের মতো বড় প্রতিষ্ঠান সমন্বিত পদ্ধতিতে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানোর প্রবণতা বাড়িয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবাসী আয়ের অঙ্ক বড় আকারে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার প্রশাসনের আগের মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি থাকায় অনেক প্রবাসী পরিবারে উদ্বেগ বেড়েছিল। তবে, ব্যবসায়িক নীতির পরিবর্তন ও কর সুবিধার কারণে কিছু বাংলাদেশি উদ্যোক্তা সেই সময় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

বর্তমানে প্রবাসীরা ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য অভিবাসন নীতির পুনর্গঠন নিয়ে চিন্তিত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মজীবীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারের উচিত প্রবাসীদের জন্য সহজ ও দ্রুত রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে, অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

শেষমেশ, রেমিট্যান্সের এমন প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।