যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 0
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক একদিন পরই উত্তর কোরিয়া সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন ও অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উৎক্ষেপণের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের ভূখণ্ডের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামক যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। মহড়া শুরুর দিনই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, এই মহড়ার বিপরীতে উত্তর কোরিয়া কঠোর অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর আগে গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের সামরিক তৎপরতা দেখাল পিয়ংইয়ং।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে। চলতি মাসের শুরুতেই দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ তাদের নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। দেশটির নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কেবল সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি ধারাবাহিক কৌশলগত পদক্ষেপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।
























