ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সময় থাকতে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুঁশিয়ারি মার্কিন সেনাদের দিলেন ইরানি কর্মকর্তা ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন, তফসিল ঘোষণা একই জমিতে বেগুন ও লাউ চাষে সিরাজগঞ্জের লিটনের বাজিমাত আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই: বিমানমন্ত্রী লস অ্যাঞ্জেলেসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো ফোবানার ৪০তম সম্মেলন ১৫ বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অ্যামাজনে কোটি টাকার চাকরি পেলেন ভারতীয় তরুণ মেসি-লেভানডোভস্কি দ্বৈরথ: শিকাগোর মাঠে ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি ইন্টার মিয়ামির জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা: ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান এজবাস্টনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের পেস তোপে দিশেহারা সফরকারীরা

আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

  • আপডেট সময় : ১২:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করেছেন। আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বুধবার তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে এই পদে যোগ দিয়েছিলেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি চিঠিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সেখানে চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে সায়মা এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি প্রশাসনিক আবেদনের ক্ষেত্রে সহকারীর ভুলের কারণে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন, তা আগেই মহাপরিচালক টেড্রোসকে অবহিত করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও এনেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তা বৈধভাবেই তাঁর মালিকানায় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর ফলে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। গত বছরের শেষ দিকে ডব্লিউএইচও তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। সায়মা পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন যে, ডব্লিউএইচওর বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে।

এদিকে, সায়মার পদত্যাগের আগেই ডব্লিউএইচও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতিমালা বাস্তবায়নে এই পদটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ নতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

আপডেট সময় : ১২:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করেছেন। আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বুধবার তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে এই পদে যোগ দিয়েছিলেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি চিঠিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সেখানে চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে সায়মা এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি প্রশাসনিক আবেদনের ক্ষেত্রে সহকারীর ভুলের কারণে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন, তা আগেই মহাপরিচালক টেড্রোসকে অবহিত করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও এনেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, সংস্থাটিতে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তা বৈধভাবেই তাঁর মালিকানায় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর ফলে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। গত বছরের শেষ দিকে ডব্লিউএইচও তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। সায়মা পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন যে, ডব্লিউএইচওর বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে।

এদিকে, সায়মার পদত্যাগের আগেই ডব্লিউএইচও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতিমালা বাস্তবায়নে এই পদটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এ বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ নতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।