ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অক্টোবরেই ফিরছে স্বাভাবিক ফ্লাইট লালবাগে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সমর্থকদের নিয়ে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের উত্থান: গত ২৫ বছরে আমূল বদলে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের বরণে প্রস্তুত দিল্লি, মোদির সঙ্গে পুতিন-পেজেশকিয়ানের বৈঠক আজ একতরফা আধিপত্য রুখতে ব্রিকসের ওপর জোর দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এআই কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি? বড় সতর্কবার্তা দিলেন গবেষকরা মক্কা চুক্তির পর ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ শনিবার ভারতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন, পুতিনসহ যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা মানুষের বর্জ্য থেকে তৈরি কংক্রিট: প্রচলিত সিমেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও টেকসই

শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত

  • আপডেট সময় : ০১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 587
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক অসুস্থ প্রজন্ম রেখে যাচ্ছি আমরা! আমাদের চারপাশের বিরাজমান নৈরাজ্য, পরিবার কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, অপসংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ার এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই”

মূলত এ বয়সের ছেলে মেয়েদের সামনে থাকে জীবন জগৎ সম্পর্কে অতি কৌতূহল, তারা সব বিষয়ে জানতে চায়- দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে তাদের কৌতূহলের শেষ নেই, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতিতে ভরে গেছে আমাদের চারপাশ, এতে বাড়ছে সমাজে বিশৃংখলা, কলহ, অশ্লীলতা সহ নানা রকম অপরাধ, এতে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররাই বেশী প্রভাবিত হচ্ছে, সমাজ তার সামাজিক মূল্যবোধ আর শৃংখলা হারিয়ে ফেলছে, তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার, অর্থনৈতিক দৈন্য দশা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যৌথ পরিবার প্রথার বিলুপ্তি, মাদকের বিষাক্ত ছোবলের কারনে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের উশৃঙ্খল হওয়ার পিছনে অনেকাংশে দায়ী।

 শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত, তাদের  বিকাশ ও অগ্রগতির উপর নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যত বাংলাদেশ ও একটি জাতির উন্নতি, কিন্তু ভবিষ্যত এই প্রজন্মকে রাষ্ট্র, সমাজ তথা পরিবারগুলো কি অবদান রাখছে? সুকুমার বৃত্তি চর্চা তো দূরের কথা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা -কি পাচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা? কি শিখছে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদের ছেলেমেয়েরা? উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে একটা মেধাশূন্য জাতি আমরা রেখে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় ভবিষ্যত বাংলাদেশে, আর এখনই যদি আমরা তা রোধ না করি তবে অনেক দেরী হয়ে যাবে। পরিবারই শিশুদের প্রথম শিক্ষালয়, তাই পরিবার থেকেই আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে হবে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে শিখাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে -শিক্ষামূলক পাঠদান  করাতে হবে, অপসংস্কৃতি সমূলে দূর করতে হবে আমাদের সমাজ থেকে, পাঠ্য বইগুলোতে জীবন ও আদর্শের অনুকরণে আমাদের সন্তানদের দিতে হবে সুশিক্ষার পাঠ.

 কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, “দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋন”

 তাই ওদেরকে একটা সুশীল সমাজ দেওয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বস্তুত পরিবারকে বলা হয় শিক্ষার প্রথম বুনিয়াদ, সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সুসংহত জাতি হিসাবে তৈরী করা পরিবারের দারিত্ব অপরিসীম। সন্তান যেন কোন অপরাধে জড়িয়ে না পরে, চারপাশ থেকে ওরা কি শিখছে, এসব কিছুতে বাবা-মাকে নজর দিতে হবে যেন সন্তান ভুল না করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রকে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন রকম অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, কুশিক্ষা আমাদের সমাজকে কলুষিত না করতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষাদান করে সেই দিকে নজরদারী বাড়াতে হবে।

অপসংস্কৃতি, কুশিক্ষা যা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তার মূল উৎপাটন করে সমূলে বিনষ্ট করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু রাষ্ট্র না সুশীল সমাজ এবং সচেতন সব নাগরিককে অংশগ্রহন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশকে অপশক্তির এই কালো ছায়া থেকে রক্ষা করতে হবে। এই দেশ আমাদের, এই দেশের মাটি, মানুষ সব আমাদের, তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত আমাদেরই রেখে যেতে হবে।।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত

আপডেট সময় : ০১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

এক অসুস্থ প্রজন্ম রেখে যাচ্ছি আমরা! আমাদের চারপাশের বিরাজমান নৈরাজ্য, পরিবার কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, অপসংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ার এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই”

মূলত এ বয়সের ছেলে মেয়েদের সামনে থাকে জীবন জগৎ সম্পর্কে অতি কৌতূহল, তারা সব বিষয়ে জানতে চায়- দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে তাদের কৌতূহলের শেষ নেই, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতিতে ভরে গেছে আমাদের চারপাশ, এতে বাড়ছে সমাজে বিশৃংখলা, কলহ, অশ্লীলতা সহ নানা রকম অপরাধ, এতে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররাই বেশী প্রভাবিত হচ্ছে, সমাজ তার সামাজিক মূল্যবোধ আর শৃংখলা হারিয়ে ফেলছে, তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার, অর্থনৈতিক দৈন্য দশা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যৌথ পরিবার প্রথার বিলুপ্তি, মাদকের বিষাক্ত ছোবলের কারনে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের উশৃঙ্খল হওয়ার পিছনে অনেকাংশে দায়ী।

 শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত, তাদের  বিকাশ ও অগ্রগতির উপর নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যত বাংলাদেশ ও একটি জাতির উন্নতি, কিন্তু ভবিষ্যত এই প্রজন্মকে রাষ্ট্র, সমাজ তথা পরিবারগুলো কি অবদান রাখছে? সুকুমার বৃত্তি চর্চা তো দূরের কথা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা -কি পাচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা? কি শিখছে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদের ছেলেমেয়েরা? উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে একটা মেধাশূন্য জাতি আমরা রেখে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় ভবিষ্যত বাংলাদেশে, আর এখনই যদি আমরা তা রোধ না করি তবে অনেক দেরী হয়ে যাবে। পরিবারই শিশুদের প্রথম শিক্ষালয়, তাই পরিবার থেকেই আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে হবে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে শিখাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে -শিক্ষামূলক পাঠদান  করাতে হবে, অপসংস্কৃতি সমূলে দূর করতে হবে আমাদের সমাজ থেকে, পাঠ্য বইগুলোতে জীবন ও আদর্শের অনুকরণে আমাদের সন্তানদের দিতে হবে সুশিক্ষার পাঠ.

 কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, “দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋন”

 তাই ওদেরকে একটা সুশীল সমাজ দেওয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বস্তুত পরিবারকে বলা হয় শিক্ষার প্রথম বুনিয়াদ, সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সুসংহত জাতি হিসাবে তৈরী করা পরিবারের দারিত্ব অপরিসীম। সন্তান যেন কোন অপরাধে জড়িয়ে না পরে, চারপাশ থেকে ওরা কি শিখছে, এসব কিছুতে বাবা-মাকে নজর দিতে হবে যেন সন্তান ভুল না করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রকে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন রকম অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, কুশিক্ষা আমাদের সমাজকে কলুষিত না করতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষাদান করে সেই দিকে নজরদারী বাড়াতে হবে।

অপসংস্কৃতি, কুশিক্ষা যা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তার মূল উৎপাটন করে সমূলে বিনষ্ট করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু রাষ্ট্র না সুশীল সমাজ এবং সচেতন সব নাগরিককে অংশগ্রহন করতে হবে। মনে রাখতে হবে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশকে অপশক্তির এই কালো ছায়া থেকে রক্ষা করতে হবে। এই দেশ আমাদের, এই দেশের মাটি, মানুষ সব আমাদের, তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত আমাদেরই রেখে যেতে হবে।।