শাবানার ‘হালচাল’ নওশাদের আফসোস!
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪
- / 280
আহমেদ তেপান্তর
কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা। সুদূর আমেরিকায় অবসর জীবনযাপন করছেন। সামান্য একজন এক্সট্রা থেকে হয়ে উঠেছিলেন কোটি মানুষের মমতাময়ী অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় বাংলা ভাষাভাষির পাশাপাশি উর্দুতেও সমানতালে অভিনয় করেছেন। যে কারণে দেশের মতো পাকিস্তানেও তার জনপ্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। এখনো সেখানকার উর্দু পত্রিকায় তাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিরাট আর্টিক্যাল ছাপা হয়। একইভাবে হিন্দি সিনেমাতেও নিজের প্রযোজনার মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন এহতেশামের হাত ধরে আসা এই অভিনেত্রী।
উর্দু ভাষায় তার অভিনীত একটি সিনেমা ‘হালচাল’, সে সময় বেশ সাড়া ফেলেছিলো। এই সাড়া ফেলার কারণ ছিল ত্রিদেশীয় প্রযোজনা। সিনেমাটি যথাক্রমে পাকিস্তানের রেপলিকা পিকচার্স, বাংলাদেশের মধুমিতা মুভিজ এবং তুরস্কের আলফা ফিল্ম প্রযোজনা করেছিলো। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন উর্দু সিনেমার খ্যাতিমান নির্মাতা পারভেজ মালিক। ১৯৮৫ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। এতে শাবানার বিপরীতে পাকিস্তানের সুপারস্টার জাভেদ শেখকে দেখা যায়। এ ধারায় পরবর্তীতে পাকিস্তানের তারকা পরিচালক নজরুল ইসলামের ‘আন্ধি’(১৯৯১, ঝড় তুফান) সিনেমায় পাকিস্তান সিনেমার পোস্টারবয় নাদিমের বিপরীতে শাবানাকে দেখা যায়।
এ প্রসঙ্গে মধুমিতা মুভিজের অন্যতম কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, “‘হালচাল’ ছিল আমাদের বিগ প্রডাকশন। ১৯৮৩ সালে যৌথ প্রযোজিত ‘দূরদেশ’ সাফল্য লাভ করার পর ‘হালচাল’ শুরু করি। এ ছবিটা দূরদেশের মতো সাফল্য না পেলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। দুঃখজনক সে অবস্থা আর মর্যাদা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গেছি। অথচ পাকিস্তান-ভারত-তুরস্ক-নেপালকে নিয়ে অনেক সিনেমাই আমাদের হতে পারে। কেবল উদারতার অভাবেই মানহীন সিনেমায় ছয়লাব আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গন।”
শাবানা তার ক্যারিয়ার কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। যে কারণে বেশকিছু যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। যেগুলো আশির দশকে বেশ সুনাম কামিয়েছে। তার দেখানো পথ পরবর্তীতে নিয়মের বেড়াজালে থমকে গেলে সিনেমা ব্যবসায় আন্তর্জাতিকিকরণও সংকুচিত হয়। ২০১৭ সালে শক্ত যৌথ প্রযোজনার নিয়মটা যেন আন্তর্জাতিকিরণের বাকি পথটুকুও হত্যা করা হয়। যদিও নিয়মের ফাঁকা গলি পেরিয়ে কিছু চেষ্টা চলমান তবে তা বাধাগ্রস্থ করতেও মরিয়া মৌলবাদী নীতিমালার বার্তাবাহকেরা।
বিডিসংবাদ/আতে


























