শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প অপরিসীম: মাহদী আমিন
- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বাবা-মায়ের অগণিত নির্ঘুম রাত, দুশ্চিন্তা ও দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। রোববার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ, যিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাপ্ত সার্টিফিকেট আপনাদের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের পথ প্রশস্ত করবে, তবে অর্জিত সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের যে অবদান রয়েছে তা সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন। আইইউটির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাত এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক এই ক্যাম্পাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এসেছেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তাদের সেই অবদান ও সংগ্রামের কথা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে।’। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ডিং ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স কেবল ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের সততা, সুবুদ্ধি ও মূল্যবোধই নির্ধারণ করে প্রযুক্তিকে কোন পথে চালনা করা হবে। তিনি কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্জিত জ্ঞানকে তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়ন এবং মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তার প্রত্যাশা, সিলিকন ভ্যালির মতো আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরেই প্রযুক্তির পরবর্তী বড় বিপ্লব আসতে পারে। তাই কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সমাজ, মানবজাতি এবং নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যবোধ একই। তাই যৌথ উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এবারের সমাবর্তনে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন শিক্ষার্থীকে মেডেল দেওয়া হয়। এর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমাইয়া আহমেদ রানী ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’ এবং অপর ছয়জন শিক্ষার্থী ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। শিক্ষামন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে সনদ ও মেডেল তুলে দেন।

























