শিল্পকলায় অবরুদ্ধ বিতর্কিত অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / 171
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করার অভিযোগে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা বিভাগের পরিচালক জ্যোতিকা জ্যোতিকে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে একাডেমির ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। স্বৈরাচারের দোসর ও আলো আসবেই গ্রুপের সদস্য জ্যোতিকা জ্যোতিকে আইনের আওতায় আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এসময় নানা স্লোগানে একাডেমিকে উত্তাল করে তোলেন বিক্ষুব্ধরা। পরে সচিব ও মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপে জ্যোতিকে মুক্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
একাডেমির ইন্সট্রাক্টর এহসানুর রহমান জানান, স্বৈরাচারের দোসর ও লিয়াকত আলী লাকীর অনেক দুর্নীতির সহযোগী অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অফিসে আসার পর আমরা অবাক হই। ভদ্রতার খাতিরে স্টাফরা তার সাথে ভালো বিহেইভ করছিলো কিন্তু তিনি যখন গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব করার চেষ্টা করছিলেন তখন তাকে আটক করে তার রুমে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রহত্যার উস্কানিদাতা “আলো আসবেই” গ্রুপের সদস্য হিসেবে দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে জ্যোতিকে পুলিশে দেওয়ার দাবিও জানায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। কিন্তু অরা তাকে পুলিশে না দিয়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছি।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে গঠিত ছাত্রহত্যার মদদদাতা “আলো আসবেই “গ্রুপের সক্রিয় সদস্য জ্যোতিকা জ্যোতি ছাত্রহত্যার উস্কানিদাতা হিসেবেও কাজ করেছিলো। ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য সে নানা ধরনের অপকর্ম করেছিলো বলেও আমাদের কাছে খবর আছে।
শিল্পকলা একাডেমির আরেক ইনস্ট্রাক্টর আইরিন পারভীন লোপা বলেন, জ্যোতিকা জ্যোতি অফিসে আসায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি কীভাবে অফিসে আসেন, যিনি স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন। যারা সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না। তিনি অফিসে আসায় আমরা হতবাক হয়েছি। যারা স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন ও সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না।
স্বৈরাচার পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা বিভাগের পরিচালক জ্যোতিকা জ্যোতি। তার চুক্তি বাতিল করে নতুন পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছিলো এই খবর জানার পর মঙ্গলবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে আসেন জ্যোতিকা জ্যোতি। এর আগে তার নিয়োগ নিয়েও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা ধরনের নেতিবাচক কথাবার্তা শোনা গিয়েছিলো। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতার সাথে বিশেষ সম্পর্কের মাধ্যমে জ্যোতিকা জ্যোতি শিল্পকলা একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন এমন কথা ওই সময় থেকেই সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাউর হয়ে শোনা যাচ্ছে।
বিডিসংবাদ/আতে




















