তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গতিশীল করতে আইসিটি টাস্কফোর্স পুনর্গঠনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
সেমিকন্ডাক্টর সামিটে ড্যাফোডিল প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৭:২০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 35
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্মার্ট উৎপাদন এবং উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরেছে ড্যাফোডিল গ্রুপ। শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ভাসানী নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিয়ার সামিট ২০২৬’-এ শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্মেলনে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম (এমপি), মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ড্যাফোডিলের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘ডিসিএল হাই-টেক’-এর ল্যাপটপ ও আইসিটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। ড্যাফোডিলের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি এসব পণ্যকে “মেড ইন বাংলাদেশ” পরিচয়ে বিশ্ববাজারে তুলে ধরার ওপর জোর দেন এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতাকে গর্বের সঙ্গে উদযাপনের আহ্বান জানান।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সৌজন্য মতবিনিময় হয়। ড. সবুর খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানগুলো তুলে ধরে জানান, এসব প্রকল্প কাজে লাগিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্বল্প ব্যয়ে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী ও উপস্থিত মন্ত্রীগণ বিষয়টির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় ড. সবুর খান প্রধানমন্ত্রীকে ড্যাফোডিল হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান, যা প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে ২০০১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘আইসিটি টাস্কফোর্স’ পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্যাভিলিয়নের মূল আকর্ষণ সামিটে ড্যাফোডিলের প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বেশ কিছু চমকপ্রদ প্রযুক্তির প্রদর্শনী ছিল:
- ডিসিএল হাই-টেক : আধুনিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সক্ষমতা প্রদর্শনে সারফেস মাউন্ট প্রযুক্তি (SMT), পিসিবি (PCB) সংযোজন এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়।
- ড্যাফোডিল রোবোটিক্স : রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এমবেডেড সিস্টেম এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৈরি শিল্প-সহায়ক প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়।
- ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি (IoT), সাইবার নিরাপত্তা, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (XR) এবং স্টার্টআপ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করা হয়।
- ড্যাফোডিল সফটওয়্যার : প্রতিষ্ঠানটির এআই-ভিত্তিক সমাধান যেমন ‘এআই প্রফেসর’, ‘সেন্ট্রাল এআই’, ‘আইইউএমএস’ (IUMS) এবং ‘১ কার্ড’ প্রদর্শন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিয়ার সামিট ২০২৬-এ ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের এই অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্ভাবন ও অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পের এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















