স্থানীয় মেধায় বিনিয়োগই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে: ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির গবেষণা
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 238
বিডিসংবাদ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও আত্মনির্ভর করতে স্থানীয় মেধা ও দক্ষ মানবসম্পদে বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। টেক্সটাইল, আইটি, ফাইন্যান্স ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ দ্রুত প্রবৃদ্ধির খাতে দক্ষ স্থানীয় কর্মীর ঘাটতি দেশের অর্থনীতিকে বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। এ বাস্তবতা তুলে ধরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন আজ শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজার দীপ্তি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “দক্ষতা বিভাজন দূরীকরণ: বাংলাদেশের মূল খাতগুলিতে বিদেশী শ্রম নির্ভরতা এবং কর্মী বাহিনী ঘাটতি মোকাবেলা” শীর্ষক এ গবেষণা উপস্থাপন করেন গবেষক দলের প্রধান ড. তানভীর আবীর। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নাদির বিন আলী, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ মনজুরুল হক খান প্রমুখ।
গবেষণার মূল তথ্য
- খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ: টেক্সটাইল, আইটি, ফাইন্যান্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে দক্ষতার বড় ঘাটতি রয়েছে।
- বিদেশি বনাম স্থানীয় কর্মী: নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিযোজনক্ষমতার কারণে বিদেশিদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লক্ষ বিদেশি পেশাজীবী দেশে কাজ করছেন।
- প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা ও কারিকুলাম আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- গ্র্যাজুয়েট কর্মসংস্থানযোগ্যতা: স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটদের প্রস্তুতির গড় স্কোর ৪-এর মধ্যে মাত্র ২.৭২—শিল্পের প্রত্যাশার অনেক নিচে।
- নীতি সুপারিশ: জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও স্থানীয় মেধা ধরে রাখার প্রণোদনা জরুরি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন করলে বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স বহিঃপ্রবাহও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য উচ্চমূল্যের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারলে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে।
গবেষক দল জানিয়েছে, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, ব্লকচেইন, গ্রিন এনার্জি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো উদীয়মান খাতে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত ফান্ডিং ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই গবেষণা নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পনেতাদের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয় মেধায় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ শুধু বিদেশি শ্রম নির্ভরতা থেকে মুক্ত হবে না, বরং টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।




















