ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হার্টের রিংয়ের দাম কমল ৪৭,৮০০ টাকা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হল ছয় জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল উৎসব সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ইআইআর প্রকল্পের বহুমুখী সুফল সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেবে ইসি শহীদ জিয়া মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত, অপহৃত ৮ আকাশে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি কুয়েতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘সুদূরপ্রসারী রূপরেখা’ গ্রহণ উ. কোরিয়া-চীনের লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত ১১

হাসপাতালগুলোকে কঠোর নির্দেশনা

হার্টের রিংয়ের দাম কমল ৪৭,৮০০ টাকা পর্যন্ত

  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 7
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হৃদরোগীদের চিকিৎসায় বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। দেশের ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ ধরনের হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) এই পুনর্নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) চূড়ান্ত করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রিংয়ের পুনর্নির্ধারিত দাম:

  • সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট: পূর্বের দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (কমেছে ৪৭,৮০০ টাকা)।
  • ম্যাগমা র‍্যাপামাইসিন: পূর্বের দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
  • সিআরই-৮: পূর্বের দাম ৫৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর জন্য ডিজিডিএ-এর ৪টি কঠোর নির্দেশনা:

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, হার্টের রিংয়ের এই নতুন মূল্য নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশনাগুলো হলো:

১. প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত নয়: হার্টের রিংয়ের দাম হাসপাতালের কোনো চিকিৎসা প্যাকেজের মধ্যে যুক্ত করা যাবে না। এটিকে আলাদাভাবে দেখাতে হবে।

২. স্বচ্ছ ক্যাশ মেমো: রোগীকে দেওয়া ক্যাশ মেমোতে স্টেন্টের সুনির্দিষ্ট নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) এবং উৎপাদনকারী কোম্পানির নাম স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ থাকতে হবে।

৩. প্যাকেট হস্তান্তর: অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্ট বা রিংয়ের মূল প্যাকেটটি অবশ্যই রোগীর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৪. মূল্যতালিকা প্রদর্শন: প্রতিটি হাসপাতালে এই চূড়ান্ত মূল্যতালিকা সাধারণ মানুষের দেখার জন্য উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

ডিজিডিএর প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক আকতার হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৯টি স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর কিছু প্রতিষ্ঠান মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে, বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মূল্যতালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, নতুন মূল্যতালিকা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সকল হাসপাতালে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও কয়েক দফায় হার্টের রিংয়ের দাম কমানো হয়েছিল। এবার নতুন করে দাম সমন্বয়ের ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হাসপাতালগুলোকে কঠোর নির্দেশনা

হার্টের রিংয়ের দাম কমল ৪৭,৮০০ টাকা পর্যন্ত

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

হৃদরোগীদের চিকিৎসায় বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)। দেশের ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ ধরনের হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) এই পুনর্নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) চূড়ান্ত করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রিংয়ের পুনর্নির্ধারিত দাম:

  • সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট: পূর্বের দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (কমেছে ৪৭,৮০০ টাকা)।
  • ম্যাগমা র‍্যাপামাইসিন: পূর্বের দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
  • সিআরই-৮: পূর্বের দাম ৫৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোর জন্য ডিজিডিএ-এর ৪টি কঠোর নির্দেশনা:

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, হার্টের রিংয়ের এই নতুন মূল্য নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি বরদাশত করা হবে না। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশনাগুলো হলো:

১. প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত নয়: হার্টের রিংয়ের দাম হাসপাতালের কোনো চিকিৎসা প্যাকেজের মধ্যে যুক্ত করা যাবে না। এটিকে আলাদাভাবে দেখাতে হবে।

২. স্বচ্ছ ক্যাশ মেমো: রোগীকে দেওয়া ক্যাশ মেমোতে স্টেন্টের সুনির্দিষ্ট নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) এবং উৎপাদনকারী কোম্পানির নাম স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ থাকতে হবে।

৩. প্যাকেট হস্তান্তর: অস্ত্রোপচারের পর ব্যবহৃত স্টেন্ট বা রিংয়ের মূল প্যাকেটটি অবশ্যই রোগীর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

৪. মূল্যতালিকা প্রদর্শন: প্রতিটি হাসপাতালে এই চূড়ান্ত মূল্যতালিকা সাধারণ মানুষের দেখার জন্য উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

ডিজিডিএর প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক আকতার হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৯টি স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর কিছু প্রতিষ্ঠান মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে, বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মূল্যতালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, নতুন মূল্যতালিকা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সকল হাসপাতালে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও কয়েক দফায় হার্টের রিংয়ের দাম কমানো হয়েছিল। এবার নতুন করে দাম সমন্বয়ের ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।