৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালে দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল দেশের শত্রু এবং মিত্রদের চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এক বিশেষ প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এর অংশ হিসেবে ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, এ কারণেই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘৭ নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।’ তিনি উল্লেখ করেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের একটাই গর্বিত পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। এই ঐক্যবদ্ধ পরিচয়ই সবাইকে একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই দিনের প্রকৃত নায়ক ছিলেন দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যেভাবে ৭ নভেম্বর দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, একইভাবে ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হওয়া কঠিন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় দেশের তারুণ্য প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপস করেনি।
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। সরকার একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে—যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

























