ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি তথ্য ফাঁসকারীদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত: ট্রাম্প মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজে জড়িত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: ৪ জেলে কারাগারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার সৌদিতে কঠোর বিধিনিষেধ: ১০৩ ফ্লাইটে বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী ইরানে জিবিইউ-৪৩/বি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা মার্কিন বাহিনীর মোজাম্বিক থেকে দেশে ফিরল প্রবাসী জসিমের মৃত অবস্থায় পাওয়া পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৯ জনের প্রাণহানি আইএমএফের ঋণ পেতে পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্ত: অর্থমন্ত্রী

কাপ্তাই হ্রদেরপানি বৃদ্ধি : ৪ ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১৮০ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭
  • / 467
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  ওপারের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি হু হু করে বেড়েই চলেছে। এতে করে জেলার নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে গত কয়েকদিন আগেই। বিপদসীমার কাছাকাছি পৌছে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদে পানি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দূয়েকদিনের মধ্যেই কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের একমাত্র জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাধঁটি হুমকির মুখে পড়বে।

এই দিকে কাপ্তাই হ্রদের বেড়ে যাওয়া পানির চাপ কমাতে আবারও কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবক’টি স্পীল ওয়ে দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়া শুরু করেছে বিদুৎ কতৃর্পক্ষ। মাঝখানে ২০দিন বিরতির পর আজ বুধবার থেকে আবারও পানি ছাড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাপ্তাই পানি বিদুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান জানান, ১৬টি স্পিলওয়ের গেইটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে লেকে পানির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সকালে কাপ্তাই লেকে পানির পরিমান ১০৫.৮৬ ফুট মীনস সি লেভেল (এমএসএল) থাকতে দেখা গেছে। তাই অগ্রিম সতর্কতা হিসেবেই পানির মওজুদ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কারণ বর্ষা মওসুম আরো বেশ কিছুদিন চলবে। হঠাৎ ভারি বর্ষণ শুরু হলে আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যেতে পারে, তাই পানির উচ্চতা সহনশীল পর্যায়ে ধরে রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই লেকে ১০৯ ফুট মীনস সি লেভেল পানি ধারন ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১০০ এমএসএল এর উপরে পানি বেশীদিন রাখা যায় না। কারণ হ্রদের নাব্যতা এবং গভিরতা কমে যাওয়ায় একশ’ ফুটের উপর পানি মওজুদ হলেই রাঙামাটি জেলা বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। জনভোগান্তি লাঘবে তাই বর্তমানে হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী জানান, বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত গেইট দিয়ে পানি ছাড়া অব্যাহত থাকবে। তবে পানি অপসারণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বৃষ্টিাপাত ও পানি বৃদ্ধর উপর নির্ভর করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে,  ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের মজুদকৃত পানি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটির মাধ্যমে প্রতিদিন এই পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে জানিয়ে অপর একটি ইউনিট বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রকৌশলী আব্দুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাপ্তাই হ্রদেরপানি বৃদ্ধি : ৪ ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১৮০ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  ওপারের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি হু হু করে বেড়েই চলেছে। এতে করে জেলার নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে গত কয়েকদিন আগেই। বিপদসীমার কাছাকাছি পৌছে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদে পানি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দূয়েকদিনের মধ্যেই কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের একমাত্র জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাধঁটি হুমকির মুখে পড়বে।

এই দিকে কাপ্তাই হ্রদের বেড়ে যাওয়া পানির চাপ কমাতে আবারও কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবক’টি স্পীল ওয়ে দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়া শুরু করেছে বিদুৎ কতৃর্পক্ষ। মাঝখানে ২০দিন বিরতির পর আজ বুধবার থেকে আবারও পানি ছাড়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

কাপ্তাই পানি বিদুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান জানান, ১৬টি স্পিলওয়ের গেইটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে লেকে পানির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সকালে কাপ্তাই লেকে পানির পরিমান ১০৫.৮৬ ফুট মীনস সি লেভেল (এমএসএল) থাকতে দেখা গেছে। তাই অগ্রিম সতর্কতা হিসেবেই পানির মওজুদ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কারণ বর্ষা মওসুম আরো বেশ কিছুদিন চলবে। হঠাৎ ভারি বর্ষণ শুরু হলে আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যেতে পারে, তাই পানির উচ্চতা সহনশীল পর্যায়ে ধরে রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই লেকে ১০৯ ফুট মীনস সি লেভেল পানি ধারন ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ১০০ এমএসএল এর উপরে পানি বেশীদিন রাখা যায় না। কারণ হ্রদের নাব্যতা এবং গভিরতা কমে যাওয়ায় একশ’ ফুটের উপর পানি মওজুদ হলেই রাঙামাটি জেলা বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। জনভোগান্তি লাঘবে তাই বর্তমানে হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী জানান, বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত গেইট দিয়ে পানি ছাড়া অব্যাহত থাকবে। তবে পানি অপসারণের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বৃষ্টিাপাত ও পানি বৃদ্ধর উপর নির্ভর করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে,  ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের মজুদকৃত পানি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটির মাধ্যমে প্রতিদিন এই পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে জানিয়ে অপর একটি ইউনিট বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রকৌশলী আব্দুর রহমান।