ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

নুসরাত হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের পরিচিতি

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯
  • / 281
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেধে আগুনে পুড়িয়ে মামলায় হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডাশের ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। রাফির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রত্যাশিতত রায় ছিল এটি। আপীল ও দোষীদের সাজা কার্যকরের প্রশ্ন এখন সবার সামনে চলে এসেছে। বেশ কয়েকজন আসামি নিতান্তই গরীব। এক লাখ টাকা অর্থ দন্ড ও আপীল খরচ বহনে বিপাকে পড়তে হবে তাদের। আদালতের রায়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি জানতে চায় দেশবাসী। সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দন্ডপ্রাপ্তদের যত চাঞ্চল্যকর তথ্য। দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বহিস্কৃত অধ্যক্ষ ও মামলার প্রধান আসামি এসএম সিরাজ উদ দৌলা, মো. নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান ওরফে জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, মো. শামীম, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, মহি উদ্দিন শাকিল ওরফে শাকিল মাহমুদ, উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মণি।

বহিস্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাঃ

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামের করিম উল্যাহ সওদাগর বাড়ির মৃত কলিম উল্যাহর ছেলে সিরাজ উদ দৌলা। নবাব সিরাজ উদ দৌলার বীরত্বের জন্য তার সাথে নামের মিল রেখে তার পিতা-মাতা তার নাম রাখেন এসএম সিরাজ উদ দৌলা। পিতা ছিলেন আমির উদ্দিন মুন্সির হাটের চা দোকানী। গ্রামবাসী ও পিতার অক্লান্ত পরিশ্রমে সিরাজ কামিল পাস করেন। কামিল পাস করে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সালামতিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ৬ বছর চাকুরী করার পর এক ছাত্রকে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির দায়ে সেখান থেকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। পরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রঙমালা মাদ্রাসায় চাকুরী নিলে একই অপরাধে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। ২০০০ সালের ১জুন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরীতে যোগদানের সময় অভিজ্ঞতার জাল করে তিনি ওই পদে চাকুরী নেন। বিএনপি জামায়াতের নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি জামায়েতের একজন নেতা হিসেবে ২০০১সালে ১মে অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন করে নিয়োগ পান। রাজনৈতিক জীবনে একসময়ে জামায়াতের রোকনের দায়ীত্বে থাকলেও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা এবং সেক্রেটারীর দাবী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে আ.লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম দুর্নীতি করলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আ.লীগে যোগদান করেননি। ১১০জন জামায়াত নেতাকে সংগঠিত করে উম্মুল ক্বোরা নামের ফাউন্ডেশন করে একটি মাদ্রাসা ও জমি কেনাবেচা শুরু করলেও অর্থ আত্মসাতের দায়ে সেই ফান্ডেশনে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০জন শেয়ার হোল্ডারের পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও আরো প্রায় অর্ধশত গ্রহক তাদের টাকা পাওনা রয়েছে। আবদুণ কাইয়ুম নিশান নামে একজন শেয়ার হোল্ডার ১কোটি ৩৯লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফেনী মডেল থানায় একটি নাশকতার মামলা সহ ৩টি মামলা রয়েছে। ফেনী শহরে একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। পারিবারিক জীবনে ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সিরাজ ছিল মেঝ। বাকী ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। ২ কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। দুই কন্যা বিবাহিত। ছেলে ডাক্তারি বিষয়ে অধ্যয়নরত। মেয়ে বিবাহিত। স্ত্রীও জীবীত রয়েছে।

মো.নূর উদ্দিনঃ

মো. নূর উদ্দিন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের দক্ষিণ সর্দার বাড়ির দিনমজুর আহসান উল্যাহর ছেলে। তার মা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাজ করে। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নূর উদ্দিন সবার বড়। বাকী ভাইয়েরাও ওই মাদ্রাসার ছাত্র। তার মায়ের আবেদনের প্রক্ষিতে সে ও তার ভাইদের অর্ধেক বেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিতেন অধ্যক্ষ সিরাজ। অধ্যক্ষের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তবে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। যদিও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হাসান মাহমুদ দাবী করেছেন সে ছাত্রদলের কেউ নয়। সে ওই মাদ্রাসার ফাজিল এবং ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

শাহাদাত হোসেন শামীমঃ

চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের নওয়াব আলী টেন্ডল বাড়ির আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। ৩ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে বেপরোয়া জীবযাপন করতো সে। মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার কারণে প্রায় তিন বছর পূূর্বে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গণধোলাইয়ের শিকার হয় শামীম। স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দিলে ২০হাজার টাকার বিনিময়ে তখন থানা থেকে ছাড়া পান। অবশ্যই নারীর ঘর ভেঙেছে তার পরকীয়ার কারণে। পড়ালেখার পাশাপশি স্থানীয় ভূঞার হাটে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতো সে। তার পিতা আবুধাবী থাকলেও বর্তমানে দেশে অবসরে আছেন। দুই ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী। বোন বিবাহিত। ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একটি কক্ষে ছাত্র সংসদের নামে নিয়মিত অফিস নিয়ে বসতেন শামীম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগিরা ভাগবাটোয়ারা করে নিতো। নুসরাতকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন শামীম।

কাউন্সিলর মাকসুদ আলমঃ

মাকসুদ আলম সোনাগাজী বাজার সংলগ্ন পান্ডব বাড়ির মরহুম আহসান উল্যাহর ছেলে। ৭ভাই ৪ বোনের মধ্যে মাকসুদ সবার বড়। সে পৌর আ.লীগের সদ্য বহিস্কৃত সাধারন সম্পাদক এবং ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। পেশায় এক সময় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তার পিতাও সোনাগাজী বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। সে ওই মাদ্রাসার বাতিল হওয়া পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

জোবায়ের আহম্মদ ওরফে সাইফুর রহমান জোবায়েরঃ

সোনাগাজী পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের তুলাতলি গ্রামের মৌলভী খায়েজ আহম্মদের বাড়ির আবুল বশরের ছেলে। পিতা সোনাগাজী হাসপাতালের সামনে আল হেরা ফার্মেসির মালিক। ৪ভাইয়ের মধ্যে জোবায়ের সবার বড়। তার পিতা জামায়াত সমর্থক হলেও সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতো। ছাত্রলীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কয়েকটি মোবাইল ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সে । ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪নং আসামি।

সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জাবেদ হোসেনঃ

জাবেদ হোসেন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিল। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন। তার পিতা চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য এবং চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।

হাফেজ আবদুল কাদেরঃ

নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৭নং আসামি হাফেজ আবদুল কাদের। সে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার অনুগত হিসেবে মাদরাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। তার পিতা আ’লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন ইতোপূর্বে অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।

প্রভাষক আবছার উদ্দিনঃ

ওই মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন। সেই মাদ্রাসার পাশাপাশি অতিথি শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি পড়াতেন সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজে। এছাড়াও রয়েছে নিজের একটি কোচিং সেন্টার। নুসরাতও তার কাছে প্রাইভেট পড়তেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী। সে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সওদাগর মাঝি বাড়ির আবদুল হকের ছেলে। দুই ভাই, ৫ বোনের মধ্যে আবছার সবার ছোট। বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বিএনপির সমর্থক বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

আবদুর রহিম শরীফঃ

আবদুর রহিম শরীফ ওই মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষ ও ফেনী পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল মালেক চৌকিদার বাড়ির হাজী আবদুর শুক্কুরের ছেলে। ৪ভাই ২বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত। পড়ালেখার পাশাপাশি সোনাগাজী বাজারের একটি দোকানে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতো। সে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। পিতাও আ.লীগের একনিষ্ঠ একজন কর্মী। আগে তিনি সৌদি আরবে ছিলেনন। বর্তমানে বাড়িতে থাকেন। পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।

মো. শামীমঃ

মো. শামীম সোনাগাজী পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম তুলাতলি গ্রামের আলী জমাদার বাড়ির কৃষক শফি উল্যাহর ছেলে। ৪ভাই ২ বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি পরিষদ আন্দোলনের কমিটির সদস্য ছিলেন। ২৮ ও ৩০ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

এমরান হোসেন মামুনঃ

এমরান হোসেন মামুন সোনাগাজী পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। দুই বোন ১ ভাইয়ের মাঝে সে মেঝ। মামুন ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

ইফতেখার উদ্দিন রানাঃ

ইফতেখার উদ্দিন রানা সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। তার পিতা টিএন্ডটি’র অফিস সহকারি। বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত রয়েছেন। সে ওই মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী ছিল। ২ভাই ২ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিল।

শাকিল মাহমুদ ওরফে মহি উদ্দিন শাকিলঃ

শাকিল মাহমুদ ওরফে মহি উদ্দিন শাকিল চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমিনের ছেলে। সে এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে শাকিল তৃতীয়।

মো. রুহুল আমিনঃ

সোনাগাজী উপজেলা আ.লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা পরিচালনা কমিটির (বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চচরচান্দিয়া গ্রামের কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। তিন ভাইয়ের মাঝে রুহুল আমিন সবার বড়। পিতা মাতা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তানেরা সবাই আমেরিকা প্রবাসী। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উম্মো সুলতানা পপি ওরফে শম্পাঃ

উম্মে সুলতানা পপি ছদ্মনাম (শম্পা) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের দরিদ্র রিক্সা চালক শহীদ উল্যাহর কন্যা।

কামরুন নাহার মণিঃ

কামরুন নাহার মণি সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বড়ির মরহুম বিজিবি সদস্য আজিজুল হকের পালিত কন্যা। ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। সে ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বার সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে কন্যা প্রস্রব করে। নবাবপুর ইউনিয়নের মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল আলম খান মিলনের ছেলে রাশেদ খান রাজুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে প্রায় এক বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে গত ২৭মার্চ দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে অধ্যক্ষ সিরাজের ৫ অনুসারী ছাত্র-ছাত্রী। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। ১১এপ্রিল সকালে ময়তদন্ত শেষে একই দিন সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাদীর কবরের পাশে নুসরাতকে দাফন করা হয়। সে উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ছোট (ওমর) মৌলভী বাড়ির মাও. একেএম মুসা মানিকের কন্যা।

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা মামলায় ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ অধ্যক্ষ সহ ১৬ আসামিকে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নুসরাত হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের পরিচিতি

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেধে আগুনে পুড়িয়ে মামলায় হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডাশের ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। রাফির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রত্যাশিতত রায় ছিল এটি। আপীল ও দোষীদের সাজা কার্যকরের প্রশ্ন এখন সবার সামনে চলে এসেছে। বেশ কয়েকজন আসামি নিতান্তই গরীব। এক লাখ টাকা অর্থ দন্ড ও আপীল খরচ বহনে বিপাকে পড়তে হবে তাদের। আদালতের রায়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতি জানতে চায় দেশবাসী। সরেজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দন্ডপ্রাপ্তদের যত চাঞ্চল্যকর তথ্য। দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বহিস্কৃত অধ্যক্ষ ও মামলার প্রধান আসামি এসএম সিরাজ উদ দৌলা, মো. নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান ওরফে জোবায়ের আহম্মদ, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, মো. শামীম, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, মহি উদ্দিন শাকিল ওরফে শাকিল মাহমুদ, উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মণি।

বহিস্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাঃ

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামের করিম উল্যাহ সওদাগর বাড়ির মৃত কলিম উল্যাহর ছেলে সিরাজ উদ দৌলা। নবাব সিরাজ উদ দৌলার বীরত্বের জন্য তার সাথে নামের মিল রেখে তার পিতা-মাতা তার নাম রাখেন এসএম সিরাজ উদ দৌলা। পিতা ছিলেন আমির উদ্দিন মুন্সির হাটের চা দোকানী। গ্রামবাসী ও পিতার অক্লান্ত পরিশ্রমে সিরাজ কামিল পাস করেন। কামিল পাস করে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর সালামতিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ৬ বছর চাকুরী করার পর এক ছাত্রকে যৌন হয়রানি ও দুর্নীতির দায়ে সেখান থেকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। পরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রঙমালা মাদ্রাসায় চাকুরী নিলে একই অপরাধে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। ২০০০ সালের ১জুন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরীতে যোগদানের সময় অভিজ্ঞতার জাল করে তিনি ওই পদে চাকুরী নেন। বিএনপি জামায়াতের নেতাদের ম্যানেজ করে তিনি জামায়েতের একজন নেতা হিসেবে ২০০১সালে ১মে অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন করে নিয়োগ পান। রাজনৈতিক জীবনে একসময়ে জামায়াতের রোকনের দায়ীত্বে থাকলেও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা এবং সেক্রেটারীর দাবী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে আ.লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম দুর্নীতি করলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আ.লীগে যোগদান করেননি। ১১০জন জামায়াত নেতাকে সংগঠিত করে উম্মুল ক্বোরা নামের ফাউন্ডেশন করে একটি মাদ্রাসা ও জমি কেনাবেচা শুরু করলেও অর্থ আত্মসাতের দায়ে সেই ফান্ডেশনে ভাঙন সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০জন শেয়ার হোল্ডারের পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও আরো প্রায় অর্ধশত গ্রহক তাদের টাকা পাওনা রয়েছে। আবদুণ কাইয়ুম নিশান নামে একজন শেয়ার হোল্ডার ১কোটি ৩৯লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফেনী মডেল থানায় একটি নাশকতার মামলা সহ ৩টি মামলা রয়েছে। ফেনী শহরে একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। পারিবারিক জীবনে ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সিরাজ ছিল মেঝ। বাকী ভাইয়েরা সবাই দিনমজুর দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। ২ কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। দুই কন্যা বিবাহিত। ছেলে ডাক্তারি বিষয়ে অধ্যয়নরত। মেয়ে বিবাহিত। স্ত্রীও জীবীত রয়েছে।

মো.নূর উদ্দিনঃ

মো. নূর উদ্দিন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের দক্ষিণ সর্দার বাড়ির দিনমজুর আহসান উল্যাহর ছেলে। তার মা ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাজ করে। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নূর উদ্দিন সবার বড়। বাকী ভাইয়েরাও ওই মাদ্রাসার ছাত্র। তার মায়ের আবেদনের প্রক্ষিতে সে ও তার ভাইদের অর্ধেক বেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিতেন অধ্যক্ষ সিরাজ। অধ্যক্ষের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তবে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। যদিও উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হাসান মাহমুদ দাবী করেছেন সে ছাত্রদলের কেউ নয়। সে ওই মাদ্রাসার ফাজিল এবং ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

শাহাদাত হোসেন শামীমঃ

চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চরচান্দিয়া গ্রামের নওয়াব আলী টেন্ডল বাড়ির আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। ৩ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে বেপরোয়া জীবযাপন করতো সে। মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার কারণে প্রায় তিন বছর পূূর্বে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গণধোলাইয়ের শিকার হয় শামীম। স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দিলে ২০হাজার টাকার বিনিময়ে তখন থানা থেকে ছাড়া পান। অবশ্যই নারীর ঘর ভেঙেছে তার পরকীয়ার কারণে। পড়ালেখার পাশাপশি স্থানীয় ভূঞার হাটে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতো সে। তার পিতা আবুধাবী থাকলেও বর্তমানে দেশে অবসরে আছেন। দুই ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী। বোন বিবাহিত। ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একটি কক্ষে ছাত্র সংসদের নামে নিয়মিত অফিস নিয়ে বসতেন শামীম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগিরা ভাগবাটোয়ারা করে নিতো। নুসরাতকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন শামীম।

কাউন্সিলর মাকসুদ আলমঃ

মাকসুদ আলম সোনাগাজী বাজার সংলগ্ন পান্ডব বাড়ির মরহুম আহসান উল্যাহর ছেলে। ৭ভাই ৪ বোনের মধ্যে মাকসুদ সবার বড়। সে পৌর আ.লীগের সদ্য বহিস্কৃত সাধারন সম্পাদক এবং ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। পেশায় এক সময় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। তার পিতাও সোনাগাজী বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। সে ওই মাদ্রাসার বাতিল হওয়া পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

জোবায়ের আহম্মদ ওরফে সাইফুর রহমান জোবায়েরঃ

সোনাগাজী পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের তুলাতলি গ্রামের মৌলভী খায়েজ আহম্মদের বাড়ির আবুল বশরের ছেলে। পিতা সোনাগাজী হাসপাতালের সামনে আল হেরা ফার্মেসির মালিক। ৪ভাইয়ের মধ্যে জোবায়ের সবার বড়। তার পিতা জামায়াত সমর্থক হলেও সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতো। ছাত্রলীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কয়েকটি মোবাইল ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে সে । ওই মাদ্রাসার ফাজিল ও ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪নং আসামি।

সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জাবেদ হোসেনঃ

জাবেদ হোসেন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিল। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন। তার পিতা চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগ কমিটির সদস্য এবং চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।

হাফেজ আবদুল কাদেরঃ

নুসরাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৭নং আসামি হাফেজ আবদুল কাদের। সে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের পঞ্চম। তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক এবং ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার অনুগত হিসেবে মাদরাসার হোস্টেলে থাকতেন আবদুল কাদের। তার পিতা আ’লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে সরাসরি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মোস্তফা জানিয়েছেন ইতোপূর্বে অপকর্মের দায়ে তাকে শিবির থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।

প্রভাষক আবছার উদ্দিনঃ

ওই মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন। সেই মাদ্রাসার পাশাপাশি অতিথি শিক্ষক হিসেবে ইংরেজি পড়াতেন সোনাগাজী এনায়েত উল্যাহ মহিলা কলেজে। এছাড়াও রয়েছে নিজের একটি কোচিং সেন্টার। নুসরাতও তার কাছে প্রাইভেট পড়তেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী। সে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সওদাগর মাঝি বাড়ির আবদুল হকের ছেলে। দুই ভাই, ৫ বোনের মধ্যে আবছার সবার ছোট। বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও বিএনপির সমর্থক বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

আবদুর রহিম শরীফঃ

আবদুর রহিম শরীফ ওই মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষ ও ফেনী পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল মালেক চৌকিদার বাড়ির হাজী আবদুর শুক্কুরের ছেলে। ৪ভাই ২বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত। পড়ালেখার পাশাপাশি সোনাগাজী বাজারের একটি দোকানে মোবাইল মেকানিক হিসেবে কাজ করতো। সে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। পিতাও আ.লীগের একনিষ্ঠ একজন কর্মী। আগে তিনি সৌদি আরবে ছিলেনন। বর্তমানে বাড়িতে থাকেন। পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।

মো. শামীমঃ

মো. শামীম সোনাগাজী পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম তুলাতলি গ্রামের আলী জমাদার বাড়ির কৃষক শফি উল্যাহর ছেলে। ৪ভাই ২ বোনের মধ্যে সে পঞ্চম। সে ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি পরিষদ আন্দোলনের কমিটির সদস্য ছিলেন। ২৮ ও ৩০ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

এমরান হোসেন মামুনঃ

এমরান হোসেন মামুন সোনাগাজী পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। দুই বোন ১ ভাইয়ের মাঝে সে মেঝ। মামুন ফেনী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

ইফতেখার উদ্দিন রানাঃ

ইফতেখার উদ্দিন রানা সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। তার পিতা টিএন্ডটি’র অফিস সহকারি। বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত রয়েছেন। সে ওই মাদ্রাসার আলীম পরীক্ষার্থী ছিল। ২ভাই ২ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিল।

শাকিল মাহমুদ ওরফে মহি উদ্দিন শাকিলঃ

শাকিল মাহমুদ ওরফে মহি উদ্দিন শাকিল চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমিনের ছেলে। সে এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে শাকিল তৃতীয়।

মো. রুহুল আমিনঃ

সোনাগাজী উপজেলা আ.লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা পরিচালনা কমিটির (বাতিলকৃত) সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চচরচান্দিয়া গ্রামের কেরানী বাড়ির কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন। তিন ভাইয়ের মাঝে রুহুল আমিন সবার বড়। পিতা মাতা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তানেরা সবাই আমেরিকা প্রবাসী। ২০১৮ সালের শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় রুহুল আমিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে দলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উম্মো সুলতানা পপি ওরফে শম্পাঃ

উম্মে সুলতানা পপি ছদ্মনাম (শম্পা) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের দরিদ্র রিক্সা চালক শহীদ উল্যাহর কন্যা।

কামরুন নাহার মণিঃ

কামরুন নাহার মণি সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বড়ির মরহুম বিজিবি সদস্য আজিজুল হকের পালিত কন্যা। ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। সে ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বার সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে কন্যা প্রস্রব করে। নবাবপুর ইউনিয়নের মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল আলম খান মিলনের ছেলে রাশেদ খান রাজুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে প্রায় এক বছর পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে গত ২৭মার্চ দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে অধ্যক্ষ সিরাজের ৫ অনুসারী ছাত্র-ছাত্রী। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। ১১এপ্রিল সকালে ময়তদন্ত শেষে একই দিন সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাদীর কবরের পাশে নুসরাতকে দাফন করা হয়। সে উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ছোট (ওমর) মৌলভী বাড়ির মাও. একেএম মুসা মানিকের কন্যা।

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা মামলায় ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ অধ্যক্ষ সহ ১৬ আসামিকে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।