ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জনসনের বেবি পাউডারে ক্যান্সারের ঝুঁকি, বন্ধ হচ্ছে বিক্রি

  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২
  • / 284
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন বিশ্বজুড়ে তাদের ট্যাল্ক বেবি পাউডার বিক্রি সামনের বছর থেকে বন্ধ করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন দু’বছরেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল।

এই পাউডার বিক্রি নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে নারীরা শত শত মামলা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ট্যাল্ক বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টস আছে এবং এটি ব্যবহার করে তারা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে জনসন অ্যান্ড জনসন আবারো বলেছে, কয়েক দশক ধরে অনেক স্বাধীন গবেষণায় তাদের এই বেবি পাউডার নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ‘বিশ্বজুড়ে পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করে আমরা এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা এখন আমাদের বেবি পাউডার তৈরি করবো ভুট্টার মাড় ব্যবহার করে।’

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভুট্টার মাড় ব্যবহার করে তৈরি বেবি পাউডার এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে একইসাথে জনসন অ্যান্ড জনসন এ কথাও জোর দিয়ে বলছে যে তাদের বেবি পাউডার ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। তারা বলছে, ‘আমাদের কসমেটিক ট্যাল্ক নিরাপদ কিনা- সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগের মতোই। সারা বিশ্বের মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের দশকব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ট্যাল্ক দিয়ে তৈরি আমাদের বেবি পাউডার নিরাপদ। এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই। আর এটি ব্যবহার করলে ক্যান্সার হয় না।’

জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের ট্যাল্ক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেবে, কারণ বেশ কিছু মামলার পর এটি নিরাপদ কীনা, তা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার’ কারণে সেখানে এর চাহিদা কমে গেছে।

তবে তখন কোম্পানিটি এ কথাও জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যসহ বাকি বিশ্বে তারা এটির বিক্রি অব্যাহত রাখবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বহু ভোক্তা মামলা করেছেন এই বলে যে কোম্পানির ট্যাল্ক পাউডারে অ্যাসবেস্টস আছে এবং এটি ব্যবহার করে তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

ট্যাল্ক পাওয়া যায় মাটির নিচে খনিতে এমন একটি স্তরে, যা অ্যাসবেস্টসের খুব কাছাকাছি। অ্যাসবেস্টস থেকে মানুষের শরীরে ক্যান্সার হতে পারে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের কোম্পানি রেকর্ড, এটির বিচারের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ দেখে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, অন্তত ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সালের শুরু পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্ক এবং বাজারজাত করা পাউডারে কখনো কখনো সামান্য পরিমাণে অ্যাসবেস্টসের অবশেষ পাওয়া গেছে।

তবে আদালতে শুনানির সময় গণমাধ্যমের রিপোর্টে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখনই অ্যাসবেস্টস দূষণের প্রমাণ দেখানো হয়েছে, কোম্পানি বার বার এটি অস্বীকার করেছে।

গত বছরের অক্টোবরে জনসন অ্যান্ড জনসন একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি তৈরি করে এলটিএল নামে, এবং ট্যাল্ক নিয়ে যত মামলা হয়েছে সেটির দায় এই কোম্পানিকে দেয়। পরে তারা এই কোম্পানিটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। ফলে ট্যাল্ক নিয়ে যত মামলা হয়েছিল, তার সবগুলোর আইনি প্রক্রিয়া এখন থমকে আছে।

দেউলিয়া ঘোষণার আগে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে সাড়ে তিন শ’ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে এমন একটি মামলাও ছিল, যেখানে ২২ জন নারীকে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছিল।

জনসনের বেবি পাউডার বিক্রি হচ্ছে গত প্রায় ১৩০ বছর ধরে এবং এটি এই কোম্পানির পরিবারবান্ধব ভাবমূর্তি তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখে।

শিশুদের ন্যাপকিন পরানো বা ঘামের কারণে যাতে কোনো ফুসকুড়ি না হয়, সেজন্যে সাধারণত বেবি পাউডার ব্যবহার করা হয়।

সূত্র : বিবিসি
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জনসনের বেবি পাউডারে ক্যান্সারের ঝুঁকি, বন্ধ হচ্ছে বিক্রি

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন বিশ্বজুড়ে তাদের ট্যাল্ক বেবি পাউডার বিক্রি সামনের বছর থেকে বন্ধ করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন দু’বছরেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল।

এই পাউডার বিক্রি নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে নারীরা শত শত মামলা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি ট্যাল্ক বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টস আছে এবং এটি ব্যবহার করে তারা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে জনসন অ্যান্ড জনসন আবারো বলেছে, কয়েক দশক ধরে অনেক স্বাধীন গবেষণায় তাদের এই বেবি পাউডার নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ‘বিশ্বজুড়ে পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করে আমরা এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা এখন আমাদের বেবি পাউডার তৈরি করবো ভুট্টার মাড় ব্যবহার করে।’

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভুট্টার মাড় ব্যবহার করে তৈরি বেবি পাউডার এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করা হচ্ছে।

তবে একইসাথে জনসন অ্যান্ড জনসন এ কথাও জোর দিয়ে বলছে যে তাদের বেবি পাউডার ব্যবহারের জন্য নিরাপদ। তারা বলছে, ‘আমাদের কসমেটিক ট্যাল্ক নিরাপদ কিনা- সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান আগের মতোই। সারা বিশ্বের মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের দশকব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ট্যাল্ক দিয়ে তৈরি আমাদের বেবি পাউডার নিরাপদ। এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই। আর এটি ব্যবহার করলে ক্যান্সার হয় না।’

জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের ট্যাল্ক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেবে, কারণ বেশ কিছু মামলার পর এটি নিরাপদ কীনা, তা নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার’ কারণে সেখানে এর চাহিদা কমে গেছে।

তবে তখন কোম্পানিটি এ কথাও জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যসহ বাকি বিশ্বে তারা এটির বিক্রি অব্যাহত রাখবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে বহু ভোক্তা মামলা করেছেন এই বলে যে কোম্পানির ট্যাল্ক পাউডারে অ্যাসবেস্টস আছে এবং এটি ব্যবহার করে তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

ট্যাল্ক পাওয়া যায় মাটির নিচে খনিতে এমন একটি স্তরে, যা অ্যাসবেস্টসের খুব কাছাকাছি। অ্যাসবেস্টস থেকে মানুষের শরীরে ক্যান্সার হতে পারে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের কোম্পানি রেকর্ড, এটির বিচারের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ দেখে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, অন্তত ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০ সালের শুরু পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্ক এবং বাজারজাত করা পাউডারে কখনো কখনো সামান্য পরিমাণে অ্যাসবেস্টসের অবশেষ পাওয়া গেছে।

তবে আদালতে শুনানির সময় গণমাধ্যমের রিপোর্টে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখনই অ্যাসবেস্টস দূষণের প্রমাণ দেখানো হয়েছে, কোম্পানি বার বার এটি অস্বীকার করেছে।

গত বছরের অক্টোবরে জনসন অ্যান্ড জনসন একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি তৈরি করে এলটিএল নামে, এবং ট্যাল্ক নিয়ে যত মামলা হয়েছে সেটির দায় এই কোম্পানিকে দেয়। পরে তারা এই কোম্পানিটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে। ফলে ট্যাল্ক নিয়ে যত মামলা হয়েছিল, তার সবগুলোর আইনি প্রক্রিয়া এখন থমকে আছে।

দেউলিয়া ঘোষণার আগে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে সাড়ে তিন শ’ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে এমন একটি মামলাও ছিল, যেখানে ২২ জন নারীকে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছিল।

জনসনের বেবি পাউডার বিক্রি হচ্ছে গত প্রায় ১৩০ বছর ধরে এবং এটি এই কোম্পানির পরিবারবান্ধব ভাবমূর্তি তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখে।

শিশুদের ন্যাপকিন পরানো বা ঘামের কারণে যাতে কোনো ফুসকুড়ি না হয়, সেজন্যে সাধারণত বেবি পাউডার ব্যবহার করা হয়।

সূত্র : বিবিসি
বিডিসংবাদ/এএইচএস