ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৫ বছর শিকলে বাঁধা খোকনের দুঃসহ জীবন

  • আপডেট সময় : ০৩:১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • / 255
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দুঃসহ জীবন যাপন করছে লক্ষ্মীপুরের মো. রবি উল্যাহ খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এমন অবস্থায় চলাফেরা করতে হচ্ছে তাকে।

এদিকে তার চিকিৎসায় ৮ বছর ধরে প্রবাসী জীবনে উপার্জন করা সকল টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেছে। তারপরও সুস্থ হননি তিনি।

এ অসুস্থতায় প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার পরিবারকে। খোকন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের নান্নু চেয়ারম্যান বাড়ির ছানা উল্যাহ’র বড় ছেলে। তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই-ভাবী, স্ত্রী ও এক কন্যা রয়েছে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর ধরে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবনযাপন করতে হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন খোকনকে। মনে হয় যেন সে বিপন্ন জীব। হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা তার জীবন থেকে মুছে গেছে। শিকল বাঁধা অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে দেখা যায় তাকে। টাকা পয়সা না থাকায় উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছে না খোকন।

অন্যদিকে সংসারে অভাব-অনটনে রোষানলে পড়ে একমাত্র  মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে হয়। এখন ভাইদের সহযোগীতায় কোনভাবে চলে তার সংসার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুবক বয়সে সে বিদেশ (ওমান) পাড়ি দেয়। ৮ বছর প্রবাসী জীবন শেষ করে অসুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেয়া হয়। এ চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার উপার্জিত সকল টাকা-পয়সা শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে চিকিৎসা চালাতে তার পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। তার পরেও তাকে সুস্থ্য করে তোলা যায়নি। ধীরে ধীরে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে এবং মানুষ দেখলে খেপে উঠে। তাই কোন উপায় না পেয়ে তার হাতে ও পায়ে লোহার শিকল বেঁধে রাখা হয়। তখন থেকেই দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এ অবস্থাতে দিন কাটাতে হয় তাকে। এমন অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য পরিবারের লোকজন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।

খোকনের বাবা ছানা উল্যাহ আক্ষেপ করে বলেন, আমি ৭০ বছরের বৃদ্ধ। এ বয়সেও আমি সুস্থভাবে চলতে পারি। কিন্তু আমার চোখের সামনে বড় খোকা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবন কাটাচ্ছে। যা সহ্য করতে আমার খুবই কষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত খোকন। তবে এ রোগের উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে সে ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১৫ বছর শিকলে বাঁধা খোকনের দুঃসহ জীবন

আপডেট সময় : ০৩:১১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দুঃসহ জীবন যাপন করছে লক্ষ্মীপুরের মো. রবি উল্যাহ খোকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এমন অবস্থায় চলাফেরা করতে হচ্ছে তাকে।

এদিকে তার চিকিৎসায় ৮ বছর ধরে প্রবাসী জীবনে উপার্জন করা সকল টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেছে। তারপরও সুস্থ হননি তিনি।

এ অসুস্থতায় প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার পরিবারকে। খোকন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের নান্নু চেয়ারম্যান বাড়ির ছানা উল্যাহ’র বড় ছেলে। তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই-ভাবী, স্ত্রী ও এক কন্যা রয়েছে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর ধরে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবনযাপন করতে হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন খোকনকে। মনে হয় যেন সে বিপন্ন জীব। হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা তার জীবন থেকে মুছে গেছে। শিকল বাঁধা অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে দেখা যায় তাকে। টাকা পয়সা না থাকায় উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছে না খোকন।

অন্যদিকে সংসারে অভাব-অনটনে রোষানলে পড়ে একমাত্র  মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে হয়। এখন ভাইদের সহযোগীতায় কোনভাবে চলে তার সংসার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুবক বয়সে সে বিদেশ (ওমান) পাড়ি দেয়। ৮ বছর প্রবাসী জীবন শেষ করে অসুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেয়া হয়। এ চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার উপার্জিত সকল টাকা-পয়সা শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে চিকিৎসা চালাতে তার পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। তার পরেও তাকে সুস্থ্য করে তোলা যায়নি। ধীরে ধীরে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে এবং মানুষ দেখলে খেপে উঠে। তাই কোন উপায় না পেয়ে তার হাতে ও পায়ে লোহার শিকল বেঁধে রাখা হয়। তখন থেকেই দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এ অবস্থাতে দিন কাটাতে হয় তাকে। এমন অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য পরিবারের লোকজন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।

খোকনের বাবা ছানা উল্যাহ আক্ষেপ করে বলেন, আমি ৭০ বছরের বৃদ্ধ। এ বয়সেও আমি সুস্থভাবে চলতে পারি। কিন্তু আমার চোখের সামনে বড় খোকা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবন কাটাচ্ছে। যা সহ্য করতে আমার খুবই কষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত খোকন। তবে এ রোগের উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে সে ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।