ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুরাদনগরে দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান

স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে ‘ডেডবডি’র প্রতিবাদ

  • আপডেট সময় : ০২:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
  • / 121
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আনন্দমেলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের উদাসীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করে প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘ডেডবডি’ সিনেমার নির্মাতাও কলাকুশলীরা। রোববার (১২ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এর সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে এফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় নির্মাতা ও পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আহবায়ক খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চিত্রনায়ক ওমর সানী সহ চলচ্চিত্রের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল বাংলা সিনেমার প্রতি স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার নানা দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সিনেপ্লেক্স তার সিনেমা ‘ডেডবডি’কে মেরে ফেলেছেন বলেও দাবি করেন।

প্রতিবাদ সভায় ইকবাল বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের সিনেমাকে কি করে ধ্বংস করে দেওয়া যায় তার সুপরিকল্পিত চত্রুান্ত করছে সিনেপ্লেক্সে। তারা আমাদের দেশী সিনেমা ভালো করে চলুক তা যেনো চাচ্ছে না। এ দেশে হিন্দি সিনেমাও চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সের অসংগতি দিন দিন বেড়ে চলছে। তারা এমন সময় বাংলাদেশের সিনেমা শো দিয়ে থাকেন তখন দর্শক সিনেপ্লেক্সে যান না। বন্ধের দিন সকাল আর রাতে বাংলাদেশের সিনেমা শো চালান। শুত্রুবার ছুটির দিন সকালে আর রাতে শোতে বাংলাদেশের সিনেমা চলে। তখন দর্শক পাওয়া যায় না। অথচ পিক টাইমে বিদেশী সিনেমাগুলো চালানো হয়। এটা একটা বড় অসংগতি।’

ইকবাল আরও জানান, সিনেপ্লেক্সে থেকে আমার সিনেমা নামিয়ে দেওয়া হয়নি। আমার ডেডবডি সিনেমা আমিই নামাতে বলেছি। তারা যে গেমটা আমার সঙ্গে খেলেছে তার প্রতিবাদেই আমার সিনেমা আমি নামাতে বলেছি। আমি যদি ঈদেও আসতাম। সিনেপ্লেক্সে যদি আমার সিনেমা না চালাতে তাহলেও আমার সিনেমার মৃত্যু ঘটত না। সুপারহিট হত।

পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সের শেয়ার মানি নিয়ে তো অসংগতি রয়েছেই। কলকাতার সিনেপ্লেক্সেসহ সিনেমার হলগুলো ফিফটি ফিফটি শেয়ারমানি দিয়ে থাকে। তার আমাদের এখানে প্রযোজককে খুশি মতো শেয়ারমানি দেওয়া হয়। তা আর মানা হবে না। শেয়ারমানির সমতা চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রযোজকরা সিনেপ্লেক্সে ফোন করলে ফোন ধরা হয় না। এসব বন্ধ করতে হবে। এসব বন্ধ করা না হলে আমরা সিনেমা দেওয়া বন্ধ করে দিবো। আর অন্যায়, অসংগতি মেনে নেওয়া হবে না।’

এ সময় সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আহবায়ক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ প্রযোজকদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। এ আচরণ একজন প্রযোজকের জন্য অসম্মানজনক। আমরা টাকা লগ্নি করে সিনেমা বানাই আর আমাদের সাথে যা তা তা আর হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ডেডবডির সাথে অন্যায় করা হয়েছে। এ সিনেমাকে এমন শো দেওয়া হয়েছে যে শোর টিকেট ৫ শত টাকা। আর অফ টাইমে শো চালানোর সিডিউল করা হয়েছে। তা ডেডবডির সাথে চত্রুান্ত এবং উদাসিনতা ছাড়া কিছু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সিনেমা শো নিয়ে ঈদ সিনেমার পরিচালকদের অভিযোগ রয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই শো কমিয়ে দেওয়া হয়। ষ্টার সিনেপ্লেক্সে তাদের ইচ্ছে মতো সিনেমা চালান। যা বাংলাদেশের সিনেমার বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র।’

খসরু বলেন, আরও আগে থেকেই প্রযোজক-পরিচালকদের স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেভাবে কেউ প্রতিবাদ করেনি। যেটা ইকবাল করেছে। সিনেপ্লেক্সের নীতিমালা সিনেমা হলের নীতিমালা। সিনেপ্লেক্স সিনেমা হলের নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স পেয়েছে। সেখানে বলা আছে ৮৫ ভাগ বাংলা সিনেমা চলাতে হবে। কিন্তু হচ্ছে উল্টো। ১৫ ভাগও বাংলা সিনেমা চালানো হয় না।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে সিনেমা হলের মালিকরা সিনেমা নিতে আসে সেখানে একজন প্রযোজককে সিনেমা নিয়ে ঘুরতে হয় সিনেপ্লেক্সের কাছে। এটা আমাদের জন্য বড় অপমানের। কখন শো সেটাও জানা যায় না। ওয়েব সাইটে গিয়ে কয়জন লোক দেখতে পারবে? বাংলা সিনেমা নিয়ে সিনেপ্লেক্সের অনীহা বরাবরই দেখছি।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশের প্রায় ৪০ হলে মুক্তি পায় এমডি ইকবাল পরিচালিত সিনেমা ‘ডেডবডি’। মুক্তির প্রথম দিনই সিনেমাটি স্টারে না চালানোর ঘোষণা দেন মো. ইকবাল। মুক্তির তিনদিনের মাথায় স্টার সিনেপ্লেক্স সিনেমাটি প্রদর্শন বন্ধ করে। ভৌতিক ধাঁচের এ সিনেমাতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওমর সানী, রোশান, শ্যামল মাওলা, অন্বেষা, রাশেদ অপু প্রমুখ।

বিডিসংবাদ/আতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে ‘ডেডবডি’র প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

আনন্দমেলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের উদাসীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করে প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন করেছে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘ডেডবডি’ সিনেমার নির্মাতাও কলাকুশলীরা। রোববার (১২ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এর সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে এফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় নির্মাতা ও পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আহবায়ক খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চিত্রনায়ক ওমর সানী সহ চলচ্চিত্রের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল বাংলা সিনেমার প্রতি স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার নানা দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সিনেপ্লেক্স তার সিনেমা ‘ডেডবডি’কে মেরে ফেলেছেন বলেও দাবি করেন।

প্রতিবাদ সভায় ইকবাল বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের সিনেমাকে কি করে ধ্বংস করে দেওয়া যায় তার সুপরিকল্পিত চত্রুান্ত করছে সিনেপ্লেক্সে। তারা আমাদের দেশী সিনেমা ভালো করে চলুক তা যেনো চাচ্ছে না। এ দেশে হিন্দি সিনেমাও চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সের অসংগতি দিন দিন বেড়ে চলছে। তারা এমন সময় বাংলাদেশের সিনেমা শো দিয়ে থাকেন তখন দর্শক সিনেপ্লেক্সে যান না। বন্ধের দিন সকাল আর রাতে বাংলাদেশের সিনেমা শো চালান। শুত্রুবার ছুটির দিন সকালে আর রাতে শোতে বাংলাদেশের সিনেমা চলে। তখন দর্শক পাওয়া যায় না। অথচ পিক টাইমে বিদেশী সিনেমাগুলো চালানো হয়। এটা একটা বড় অসংগতি।’

ইকবাল আরও জানান, সিনেপ্লেক্সে থেকে আমার সিনেমা নামিয়ে দেওয়া হয়নি। আমার ডেডবডি সিনেমা আমিই নামাতে বলেছি। তারা যে গেমটা আমার সঙ্গে খেলেছে তার প্রতিবাদেই আমার সিনেমা আমি নামাতে বলেছি। আমি যদি ঈদেও আসতাম। সিনেপ্লেক্সে যদি আমার সিনেমা না চালাতে তাহলেও আমার সিনেমার মৃত্যু ঘটত না। সুপারহিট হত।

পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সের শেয়ার মানি নিয়ে তো অসংগতি রয়েছেই। কলকাতার সিনেপ্লেক্সেসহ সিনেমার হলগুলো ফিফটি ফিফটি শেয়ারমানি দিয়ে থাকে। তার আমাদের এখানে প্রযোজককে খুশি মতো শেয়ারমানি দেওয়া হয়। তা আর মানা হবে না। শেয়ারমানির সমতা চাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রযোজকরা সিনেপ্লেক্সে ফোন করলে ফোন ধরা হয় না। এসব বন্ধ করতে হবে। এসব বন্ধ করা না হলে আমরা সিনেমা দেওয়া বন্ধ করে দিবো। আর অন্যায়, অসংগতি মেনে নেওয়া হবে না।’

এ সময় সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আহবায়ক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ প্রযোজকদের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। এ আচরণ একজন প্রযোজকের জন্য অসম্মানজনক। আমরা টাকা লগ্নি করে সিনেমা বানাই আর আমাদের সাথে যা তা তা আর হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ডেডবডির সাথে অন্যায় করা হয়েছে। এ সিনেমাকে এমন শো দেওয়া হয়েছে যে শোর টিকেট ৫ শত টাকা। আর অফ টাইমে শো চালানোর সিডিউল করা হয়েছে। তা ডেডবডির সাথে চত্রুান্ত এবং উদাসিনতা ছাড়া কিছু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সিনেমা শো নিয়ে ঈদ সিনেমার পরিচালকদের অভিযোগ রয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই শো কমিয়ে দেওয়া হয়। ষ্টার সিনেপ্লেক্সে তাদের ইচ্ছে মতো সিনেমা চালান। যা বাংলাদেশের সিনেমার বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র।’

খসরু বলেন, আরও আগে থেকেই প্রযোজক-পরিচালকদের স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেভাবে কেউ প্রতিবাদ করেনি। যেটা ইকবাল করেছে। সিনেপ্লেক্সের নীতিমালা সিনেমা হলের নীতিমালা। সিনেপ্লেক্স সিনেমা হলের নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স পেয়েছে। সেখানে বলা আছে ৮৫ ভাগ বাংলা সিনেমা চলাতে হবে। কিন্তু হচ্ছে উল্টো। ১৫ ভাগও বাংলা সিনেমা চালানো হয় না।

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে সিনেমা হলের মালিকরা সিনেমা নিতে আসে সেখানে একজন প্রযোজককে সিনেমা নিয়ে ঘুরতে হয় সিনেপ্লেক্সের কাছে। এটা আমাদের জন্য বড় অপমানের। কখন শো সেটাও জানা যায় না। ওয়েব সাইটে গিয়ে কয়জন লোক দেখতে পারবে? বাংলা সিনেমা নিয়ে সিনেপ্লেক্সের অনীহা বরাবরই দেখছি।

উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশের প্রায় ৪০ হলে মুক্তি পায় এমডি ইকবাল পরিচালিত সিনেমা ‘ডেডবডি’। মুক্তির প্রথম দিনই সিনেমাটি স্টারে না চালানোর ঘোষণা দেন মো. ইকবাল। মুক্তির তিনদিনের মাথায় স্টার সিনেপ্লেক্স সিনেমাটি প্রদর্শন বন্ধ করে। ভৌতিক ধাঁচের এ সিনেমাতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওমর সানী, রোশান, শ্যামল মাওলা, অন্বেষা, রাশেদ অপু প্রমুখ।

বিডিসংবাদ/আতে