ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ‘এক সংস্কৃতির’ আহ্বান প্রত্যাখ্যান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র গরমে দুর্বিষহ দিন কাটছে পাকিস্তানের খেজুর শ্রমিকদের বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের

ছাত্রলীগ-পুলিশের সেই পিটুনির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন নির্মাতা মাহিন

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪
  • / 133
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


আনন্দমেলা প্রতিবেদক
স্বৈরশাসক হাসিনা সরকারের পতনে একদিকে যেমন শিরদাড় সোজা করে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে তেমনি এই প্রকাশে উন্মোচিত হচ্ছে বিগত শাসনামলে আওয়ামী পেটোয়া বাহিনীর গা হিম করা ঘটনাগুলো। নিষ্পেষিত হওয়া মানুষগুলো সাহস করে দাঁড়িয়ে গেছে সত্য প্রকাশে। তাদের একজন জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও নির্মাতা মাহিন আওলাদ। ঘটনা ২০১৩ সালের। দুঃসহ সেই স্মৃতি মনে করলে এখনও গা শিঁউরে ওঠে। তবে পরিস্থিতি বদলেছে তাই সত্য প্রকাশের এটাই সময়- জানাচ্ছিলেন এই নির্মাতা।
মাহিন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে বলেন, “২০১৩ সাল, সময় দুপুর ১টা। আমার এক কাছের ছোট ভাই মাহিন আওলাদ যাকে এখন আপনারা দেশের একজন গুণী নির্মাতা হিসেহে চিনেন। তার সঙ্গে ছিলো আরেক ছোট ভাই নোয়েল। স্টুডিও থেকে মগবাজার প্যানেলের দিকে যাচ্ছিলাম। সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সামনে যেতেই তৎকালীন কয়েকজন ছত্রলীগনেতা বাইকের গতিরোধ করে বলে, তোরা কটটেল মারলি কেন?”
“আমরা তখন ওই ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে থাকা হার্ডডিস্ক দেখিয়ে বলি, আমরা মিডিয়ায় কাজ করি। এই হার্ডডিস্কে শুটিং এর ফুটেজ আছে। এডিটিং করার জন্য প্যানেলে যাচ্ছি। আমারা মিডিয়ায় কাজ করি, ককটেল কেন মারবো? কিন্তু এসব শোনার সময়ও ওদের ছিলো না। যাচ্ছেতাই গালিমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে জোর করে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বেধরক মারধর করে। এসময় পুলিশের একটি দল আসে। তারাও মারপিটে ছাত্রলীগের সহযোগী হয়। সেখানেই শেষ নয়- একপর্যায়ে রমনা থানায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় নির্মমভাবে টর্চার করে পুলিশ।”
ছাত্রলীগের সঙ্গে পুলিশের এই নৃশংসতা তুলে ধরে মাহিন আওলাদ বলেন, মারধরের এক পর্যায়ে অনেক অনুরোধ করে পরে তারা পুলিশের কাছে অনেক অনুরোধ করে বলে, তারা একটা ফোন করতে চায়, অনেক বলার পর পুলিশ রাজি হয়। অনুমতি লাভের পর ব্যানসন অ্যান্ড হেজেস চ্যাম্পিয়ন সুজন আরিফকে ঘটনা খুলে বলি। আরিফ তাৎক্ষণিক ইশতিয়াক, তানভীন রফিক, আমাদের বাড়িওয়ালা তাহের ভাইকে নিয়ে রমনা থানায় আসেন।”
এ ব্যাপারে ওইদিন থানায় গিয়ে মাহিন আওলাদের অবস্থা দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান সুজন আরিফ। এমনটাই তার পোস্টে জানিয়েছেন। বলেন, “মাহিনের অবস্থা ছিলো বেশি খারাপ। মানুষ মানুষের প্রতি এমন র্নিমম হতে পারে, ওদেরকে দেখে সেদিন বুঝেছিলাম। অনেক দেন-দরবারের পর ওদেরকে থানা থেকে নিয়ে আসতে সক্ষম হই।”
তিনি আরো বলেন, “থানা থেকে বের হয়ে মাহিন আক্ষেপের সুরে একটা কথা বলেছিলো, যে কথা আজ কানে খুব বাজছে, ও বলেছিলো ‘ভাই এরা দেশের সাধারণ মানুষকে মানুষ হিসেবেই মনে করে না। আজ আমার উপর যে অন্যায় হলো, আমার মন থেকে বদ দোয়া ওদের প্রতি আসলো জাস্ট এই কারণেই একদিন ওদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।”
তিনি আরো লিখেন- “এরপর টানা তিনটা মাস মাহিন যে মানবেতর জীবন যাপন করেছে তা আমি দেখেছি। একটা ট্রমার মধ্যে ছিলো ছেলেটা। আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন আওলাদ। শুধু মাহিন না, এই স্বাধীন দেশের প্রতিটি ঘরে খোঁজ নিয়ে দেখেন, এমন আর্তনাদ, হাহাকার আর আক্ষেপের একজন করে পাবেন।”

বিডিসংবাদ/আতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছাত্রলীগ-পুলিশের সেই পিটুনির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন নির্মাতা মাহিন

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪


আনন্দমেলা প্রতিবেদক
স্বৈরশাসক হাসিনা সরকারের পতনে একদিকে যেমন শিরদাড় সোজা করে সংবাদ প্রকাশ করতে পারছে তেমনি এই প্রকাশে উন্মোচিত হচ্ছে বিগত শাসনামলে আওয়ামী পেটোয়া বাহিনীর গা হিম করা ঘটনাগুলো। নিষ্পেষিত হওয়া মানুষগুলো সাহস করে দাঁড়িয়ে গেছে সত্য প্রকাশে। তাদের একজন জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও নির্মাতা মাহিন আওলাদ। ঘটনা ২০১৩ সালের। দুঃসহ সেই স্মৃতি মনে করলে এখনও গা শিঁউরে ওঠে। তবে পরিস্থিতি বদলেছে তাই সত্য প্রকাশের এটাই সময়- জানাচ্ছিলেন এই নির্মাতা।
মাহিন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে বলেন, “২০১৩ সাল, সময় দুপুর ১টা। আমার এক কাছের ছোট ভাই মাহিন আওলাদ যাকে এখন আপনারা দেশের একজন গুণী নির্মাতা হিসেহে চিনেন। তার সঙ্গে ছিলো আরেক ছোট ভাই নোয়েল। স্টুডিও থেকে মগবাজার প্যানেলের দিকে যাচ্ছিলাম। সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সামনে যেতেই তৎকালীন কয়েকজন ছত্রলীগনেতা বাইকের গতিরোধ করে বলে, তোরা কটটেল মারলি কেন?”
“আমরা তখন ওই ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে থাকা হার্ডডিস্ক দেখিয়ে বলি, আমরা মিডিয়ায় কাজ করি। এই হার্ডডিস্কে শুটিং এর ফুটেজ আছে। এডিটিং করার জন্য প্যানেলে যাচ্ছি। আমারা মিডিয়ায় কাজ করি, ককটেল কেন মারবো? কিন্তু এসব শোনার সময়ও ওদের ছিলো না। যাচ্ছেতাই গালিমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে জোর করে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের ভিতরে নিয়ে গিয়ে বেধরক মারধর করে। এসময় পুলিশের একটি দল আসে। তারাও মারপিটে ছাত্রলীগের সহযোগী হয়। সেখানেই শেষ নয়- একপর্যায়ে রমনা থানায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় নির্মমভাবে টর্চার করে পুলিশ।”
ছাত্রলীগের সঙ্গে পুলিশের এই নৃশংসতা তুলে ধরে মাহিন আওলাদ বলেন, মারধরের এক পর্যায়ে অনেক অনুরোধ করে পরে তারা পুলিশের কাছে অনেক অনুরোধ করে বলে, তারা একটা ফোন করতে চায়, অনেক বলার পর পুলিশ রাজি হয়। অনুমতি লাভের পর ব্যানসন অ্যান্ড হেজেস চ্যাম্পিয়ন সুজন আরিফকে ঘটনা খুলে বলি। আরিফ তাৎক্ষণিক ইশতিয়াক, তানভীন রফিক, আমাদের বাড়িওয়ালা তাহের ভাইকে নিয়ে রমনা থানায় আসেন।”
এ ব্যাপারে ওইদিন থানায় গিয়ে মাহিন আওলাদের অবস্থা দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান সুজন আরিফ। এমনটাই তার পোস্টে জানিয়েছেন। বলেন, “মাহিনের অবস্থা ছিলো বেশি খারাপ। মানুষ মানুষের প্রতি এমন র্নিমম হতে পারে, ওদেরকে দেখে সেদিন বুঝেছিলাম। অনেক দেন-দরবারের পর ওদেরকে থানা থেকে নিয়ে আসতে সক্ষম হই।”
তিনি আরো বলেন, “থানা থেকে বের হয়ে মাহিন আক্ষেপের সুরে একটা কথা বলেছিলো, যে কথা আজ কানে খুব বাজছে, ও বলেছিলো ‘ভাই এরা দেশের সাধারণ মানুষকে মানুষ হিসেবেই মনে করে না। আজ আমার উপর যে অন্যায় হলো, আমার মন থেকে বদ দোয়া ওদের প্রতি আসলো জাস্ট এই কারণেই একদিন ওদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।”
তিনি আরো লিখেন- “এরপর টানা তিনটা মাস মাহিন যে মানবেতর জীবন যাপন করেছে তা আমি দেখেছি। একটা ট্রমার মধ্যে ছিলো ছেলেটা। আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন আওলাদ। শুধু মাহিন না, এই স্বাধীন দেশের প্রতিটি ঘরে খোঁজ নিয়ে দেখেন, এমন আর্তনাদ, হাহাকার আর আক্ষেপের একজন করে পাবেন।”

বিডিসংবাদ/আতে