রাশিয়ার হামলায় জেলেনস্কির নিজ শহরে শিশুসহ ১৮ জন নিহত
- আপডেট সময় : ০১:৪১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 115
বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ
আবাসিক এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হানার ফলে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর ক্রিভি রিহ-তে শুক্রবার রাশিয়ার মিসাইল হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। শহরটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির জন্মস্থান। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলায় নিহতদের নয়জনই শিশু।
আবাসিক এলাকায় একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হানার ফলে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্য ভেদ করতে সক্ষম এমন একটি মিসাইল দিয়ে তারা ইউক্রেনের একটি রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়েছে। এতে ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। ওই স্থানে ইউক্রেনে ইউনিট কমান্ডার ও পশ্চিমা প্রশিক্ষকদের একটি বৈঠক চলছিলো বলে দাবি তাদের।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার দাবিকে ‘নিষ্ঠুর অপরাধকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, রাশিয়া একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে আঘাত হানতে পারে।
ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর ক্রিভি রিহ-তে যেসব ভয়াবহ হামলা হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে চালানো হামলাটি তার মধ্যে অন্যতম। হামলাটি এমন সময় হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছেন।
জেলেন্সকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘শুক্রবারের আক্রমণে অন্তত পাঁচটি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ এখনো চলছে, কারণ রাশিয়া যুদ্ধবিরতি চায় না। আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।’
আবাসিক এলাকায় মিসাইলটি আঘাত হেনেছিলো উল্লেখ করে ক্রিভি রিহর প্রতিরক্ষা প্রধান ওলেক্সান্দার ভিলকুল বলেন, ‘মিসাইলটি আকাশে বিস্ফোরিত হয়েছিল। এতে অনেক বেশি মানুষ আহত হয়। শিশুরা নিহত হয়েছে, তারা খেলার মাঠেই ছিল।’
ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান সেরহি লিসাক জানান, অন্তত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট, তার বয়স মাত্র তিন মাস।
ওই হামলার পর আরো বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ভিলকুল জানান, শহরে ব্যাপক ড্রোন হামলা হয়েছে। ড্রোন হামলার ফলে অন্তত চারটি স্থানে আগুন ধরে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। ড্রোন হামলায় একটি বাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং সেখানে বসবাসরত এক বৃদ্ধা আগুনে পুড়ে মারা যান।
এছাড়াও শহরের অন্যান্য স্থানে হওয়া ড্রোন হামলায় আরো পাঁচজন আহত হন।
এই হামলার ঠিক আগের দিন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সামরিক প্রধানরা কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকির সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনে অন্য দেশের শান্তিরক্ষী মোতায়েন নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র : বিবিসি
বিডিসংবাদ/এএইচএস

























