ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ট্রাম্পের ইরান নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওবামার তীব্র সমালোচনা টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহরে নতুন এয়ারবাস এ৩২১এলআর যোগ করছে কাতার এয়ারওয়েজ নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে ফের হামলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই অনুমোদন দিল এনসিসিসি খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোমবার থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর রিয়াদে ফ্লাইট চালুর পরই বিস্ফোরণ, আকাশজুড়ে নতুন আতঙ্ক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দেবেন হুমায়ুন কবির

প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের প্রশংসা বিএনপি ও জামায়াতের

  • আপডেট সময় : ০২:১৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 106
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া ভাষণকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাষণটিকে দৃঢ় ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এই ভাষণ শক্তিশালী ছিল। প্রধান উপদেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার নির্বাচনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। আমরা নিশ্চিত যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ‘তিনি যথাযথভাবে বলেছেন, আমাদের সরকার যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে তার প্রতিফলন ভাষণে প্রকাশ পেয়েছে,’ ফখরুল উল্লেখ করেন।

ফখরুল আরও বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তার সরকার কাজ শুরু করেছে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি পূরণে উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সফরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘এটি জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শন এবং এজন্য আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা জানিয়েছি।’

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সর্বপ্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা আন্তর্জাতিক মহলে অংশগ্রহণ করেছেন—এটি সত্যিই ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় ঘটনা।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভাষণটিকে যুগান্তকারী বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে ন্যায়বিচার, সংস্কার ও আন্তর্জাতিক একাত্মতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়নশীল দেশের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রূপান্তরের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘যুবসমাজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জুলাই ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সংস্কারের পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য অর্থনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণ, মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং অতীতের নির্যাতন প্রতিরোধের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসী কর্মীদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা দেশের জন্য রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে যাচ্ছেন। এ অবদান দেশে ও কর্মস্থলে সমানভাবে মূল্যবান।’

তিনি রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের গণহত্যার কঠোর নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা গাজায় সহিংসতা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু, যুব নেতৃত্বে উদ্ভাবন, নতুন প্রযুক্তির সমতা, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, শান্তি সংরক্ষণ, আঞ্চলিক সংস্থার পুনর্জীবন ও বহুপক্ষীয়তার সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি ‘তিন-শূণ্য বিশ্ব’-এর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন: শূণ্য কার্বন নির্গমন, সম্পদের সমান বণ্টন যাতে দারিদ্র্য নির্মূল হয়, এবং শূণ্য বেকারত্ব।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা ড. নকীবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির প্রথম সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের প্রশংসা বিএনপি ও জামায়াতের

আপডেট সময় : ০২:১৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া ভাষণকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাষণটিকে দৃঢ় ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এই ভাষণ শক্তিশালী ছিল। প্রধান উপদেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার নির্বাচনের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। আমরা নিশ্চিত যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। ‘তিনি যথাযথভাবে বলেছেন, আমাদের সরকার যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে তার প্রতিফলন ভাষণে প্রকাশ পেয়েছে,’ ফখরুল উল্লেখ করেন।

ফখরুল আরও বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে তার সরকার কাজ শুরু করেছে, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি পূরণে উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সফরে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘এটি জাতীয় ঐক্যের প্রদর্শন এবং এজন্য আমরা আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা জানিয়েছি।’

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সর্বপ্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা আন্তর্জাতিক মহলে অংশগ্রহণ করেছেন—এটি সত্যিই ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় ঘটনা।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভাষণটিকে যুগান্তকারী বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে ন্যায়বিচার, সংস্কার ও আন্তর্জাতিক একাত্মতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়নশীল দেশের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রূপান্তরের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘যুবসমাজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জুলাই ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সংস্কারের পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য অর্থনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণ, মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং অতীতের নির্যাতন প্রতিরোধের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসী কর্মীদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা দেশের জন্য রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে যাচ্ছেন। এ অবদান দেশে ও কর্মস্থলে সমানভাবে মূল্যবান।’

তিনি রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ইসরায়েলের গণহত্যার কঠোর নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা গাজায় সহিংসতা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু, যুব নেতৃত্বে উদ্ভাবন, নতুন প্রযুক্তির সমতা, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, শান্তি সংরক্ষণ, আঞ্চলিক সংস্থার পুনর্জীবন ও বহুপক্ষীয়তার সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি ‘তিন-শূণ্য বিশ্ব’-এর দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন: শূণ্য কার্বন নির্গমন, সম্পদের সমান বণ্টন যাতে দারিদ্র্য নির্মূল হয়, এবং শূণ্য বেকারত্ব।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা ড. নকীবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির প্রথম সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত ছিলেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস