ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউনিফর্মে মণ্ডপে গান গাওয়ায় প্রত্যাহার এসআই উদয়ন সকলের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক নাটোরের লালপুরে গাঁজা গাছসহ আটক এক জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল বন্ধ, বিপাকে গরিব রোগীরা রুটস ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকায় দা নাং বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় পরাজয়ের মুখে ট্রাম্প ভালুকায় অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার তিন মাগুরায় পৌর যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, ঘটনাস্থলে পুলিশ ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা এক ‘বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি করছে : রেডক্রস প্রধান

  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / 71
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে বলে শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)’র প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পোলজারিক।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পোলজারিক সকল পক্ষকে যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসাথে আরও মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের অনুরোধ জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে স্পোলজারিক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক চেইন রিঅ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলা কোনো পছন্দ নয়, বরং এটি একটি বাধ্যবাধকতা। আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বিশেষ করে জেনেভা কনভেনশনের চারটি ধারা মেনে চলা জরুরি।’

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে আইসিআরসি। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত রাখা। যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় না, তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং যুদ্ধের পদ্ধতি ও কৌশলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা এই আইনের কাজ।

স্পোলজারিক বলেন, ‘হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে অবশ্যই হামলার বাইরে রাখতে হবে। চিকিৎসা কর্মী ও জরুরি উদ্ধারকারীদের নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।’

ত্রাণ তৎপরতা ও রক্তদান কর্মসূচি

এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) জানিয়েছে, তারা ত্রাণ সহায়তা এবং লজিস্টিক সরবরাহ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখছে।

জেনেভা ভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসা সেবা, দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করেছে। তারা মিনাব এলাকার একটি স্কুলে হামলার পর সেখানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলে ‘মাগেন ডেভিড আদম’ সোসাইটিও তাদের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করেছে। আইএফআরসি জানিয়েছে, তারা আহতদের চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ করছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে রক্তদান কর্মসূচিও চলছে।

বিশ্বের ১৯১টিরও বেশি দেশে ১৭ মিলিয়নেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে আইএফআরসি’র। সংস্থাটি চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপদে কাজ করার এবং দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মধ্যপ্রাচ্যে হামলা এক ‘বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি করছে : রেডক্রস প্রধান

আপডেট সময় : ০৪:৪২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে বলে শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)’র প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পোলজারিক।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মির্জানা স্পোলজারিক সকল পক্ষকে যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসাথে আরও মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের অনুরোধ জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে স্পোলজারিক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক চেইন রিঅ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলা কোনো পছন্দ নয়, বরং এটি একটি বাধ্যবাধকতা। আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বিশেষ করে জেনেভা কনভেনশনের চারটি ধারা মেনে চলা জরুরি।’

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে আইসিআরসি। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সীমিত রাখা। যারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় না, তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং যুদ্ধের পদ্ধতি ও কৌশলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা এই আইনের কাজ।

স্পোলজারিক বলেন, ‘হাসপাতাল, ঘরবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে অবশ্যই হামলার বাইরে রাখতে হবে। চিকিৎসা কর্মী ও জরুরি উদ্ধারকারীদের নিরাপদে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।’

ত্রাণ তৎপরতা ও রক্তদান কর্মসূচি

এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) জানিয়েছে, তারা ত্রাণ সহায়তা এবং লজিস্টিক সরবরাহ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখছে।

জেনেভা ভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাদের স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসা সেবা, দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করেছে। তারা মিনাব এলাকার একটি স্কুলে হামলার পর সেখানে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলে ‘মাগেন ডেভিড আদম’ সোসাইটিও তাদের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করেছে। আইএফআরসি জানিয়েছে, তারা আহতদের চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ করছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে রক্তদান কর্মসূচিও চলছে।

বিশ্বের ১৯১টিরও বেশি দেশে ১৭ মিলিয়নেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে আইএফআরসি’র। সংস্থাটি চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপদে কাজ করার এবং দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিডিসংবাদ/এএইচএস